বন্ধুর ছুরির আঘাতে কিশোরের মৃত্যু, বারুইপুর হাসপাতালে বিক্ষোভ, রাতভর অবরোধ।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বচসার জেরে এক কিশোরকে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত কিশোরের বয়স ১৬ বছর। অভিযোগ, খেলাকে কেন্দ্র করে বিবাদের পর তিন বন্ধু মিলে তার বুকে ছুরি বসিয়ে দেয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুরের উকিলপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যাবেলায় একদল কিশোর ফুটবল খেলছিল। সেই সময় খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রথমে কথা কাটাকাটি হলেও পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। অভিযোগ, সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৬ বছরের ওই কিশোরের বুকে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
ঘটনার পর দ্রুত তদন্তে নেমে তিন অভিযুক্তকে আটক করে বারুইপুর থানার পুলিশ। তবে আরও দুই অভিযুক্ত এখনও পলাতক বলে জানা গিয়েছে। আটক তিনজনকে নিরাপত্তার স্বার্থে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এসে একটি সুরক্ষিত কক্ষে রাখা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেন নিহত কিশোরের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে আটক অভিযুক্তদের টেনে বের করারও চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বারুইপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তা বলয় ভেঙে অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছতে পারেননি বিক্ষোভকারীরা।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বারুইপুর হাসপাতালের সামনে কুলপি রোড অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের জেরে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’ধারে আটকে পড়ে বহু যানবাহন এবং ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। প্রায় রাত ১২টা পর্যন্ত অবরোধ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় গোটা হাসপাতাল চত্বরে মোতায়েন করা হয় কয়েকশো পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। হাসপাতাল এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছন বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বও। উপস্থিত ছিলেন বারুইপুর শহর মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী এবং বিজেপির রাজ্য নেতা উত্তম কর। তাঁরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে। পলাতক দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। কী কারণে সামান্য ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।