তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ব্যাঙ্ক লেনদেনের অভিযোগে পাঁচ জায়গায় তল্লাশি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আর্থিক অনিয়ম এবং তৃণমূল কংগ্রেস-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগে মঙ্গলবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিপুল অঙ্কের অর্থ একাধিক সংস্থা এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুরিয়ে অন্যত্র সরানোর অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।
ইডি সূত্রে খবর, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ)-এর আওতায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করে তা বিভিন্ন সংস্থা ও অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেই অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতেই মঙ্গলবার ভোর থেকে পাঁচটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়।
তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন নামে একটি সংস্থা, সংস্থার কয়েক জন কর্তা এবং একটি কথিত নির্বাচনী ট্রাস্ট। ইডির অনুমান, এই ট্রাস্ট বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মাধ্যমে তদন্তাধীন আর্থিক লেনদেনের একটি অংশ পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তল্লাশির সময় বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাগজপত্র, হিসাবের খাতা, কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। ইডি আধিকারিকেরা ওই নথি পরীক্ষা করে অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি এবং টাকার গতিপথ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
তদন্তকারী সংস্থার একাংশের মতে, এই আর্থিক লেনদেনে আরও ব্যক্তি বা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং নথি, কর্পোরেট রেকর্ড এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে মানি লন্ডারিং আইনের কোনও বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।
ইডি সূত্রের দাবি, এই অভিযান কেবল তল্লাশিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বাজেয়াপ্ত নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে অর্থের প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই লেনদেন করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা চালাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
যদিও এই অভিযানের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ইডির তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।