উত্তরপ্রদেশের কায়দায় এনকাউন্টার ?

বারুইপুর গণধর্ষণ ও খুন মামলায় পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নয়া মোড়। উত্তরপ্রদেশের হাথরাস ধর্ষণকাণ্ডের কায়দায়ই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ (রেকনস্ট্রাকশন) করা হচ্ছিল। সেই সময় বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় প্রভাস পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটকাতে গুলি চালায়।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত হঠাৎই পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে সতর্ক করা হলেও সে না থামায় বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রভাস মণ্ডল সেই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ছিল। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই এনকাউন্টারকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, অভিযুক্তের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বারুইপুর ও সংলগ্ন এলাকায়, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

তবে পুলিশের এই বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার তদন্ত এবং সরকারি রিপোর্ট প্রকাশের পরই পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।