দেশের বড় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিতে চিঠি দিয়ে জানবেন, ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলিতে ই-২০ পেট্রল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ কি না?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল আবারও কেন্দ্রের ই-২০ (২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত) পেট্রল নীতিকে ঘিরে প্রশ্ন তুললেন। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেছেন, দেশের সমস্ত বড় গাড়ি নির্মাতা সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাইবেন, ২০২৩ সালের আগে তৈরি হওয়া গাড়িগুলিতে ই-২০ পেট্রল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ কি না। যদি সেই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যায় বা ইঞ্জিন কিংবা অন্য কোনও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলে সেই ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা নেবে কি না, সে বিষয়েও লিখিত আশ্বাস চেয়েছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ কেজরিওয়াল জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি ওই চিঠিগুলি প্রকাশ করবেন। তাঁর দাবি, ই-২০ জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর করার দায়িত্ব গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিরই। তাই সংস্থাগুলিকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, ২০২৩ সালের আগে তৈরি গাড়িতে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে কোনও ঝুঁকি রয়েছে কি না এবং সম্ভাব্য ক্ষতির ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না।
অন্য দিকে, কেজরিওয়ালের অভিযোগের জবাবে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সোমবারই দাবি করেছিলেন, ই-২০ পেট্রল নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর কথায়, ই-২০ জ্বালানির কারণে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে— এমন দাবি ‘ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে’ করা হচ্ছে।
হরদীপ সিং পুরীর দাবি, গত সাড়ে তিন বছর ধরে দেশে ধাপে ধাপে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ই-২০ কার্যকর হওয়ার পর এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২০ কোটি দু’চাকা এবং ২০ লক্ষ চারচাকা গাড়ি ইথানল মিশ্রিত পেট্রলেই চলছে। তাঁর বক্তব্য, গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলিও ই-২০ ব্যবহারে স্বস্তি প্রকাশ করেছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।
ই-২৫ চালুর প্রসঙ্গেও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্র। হরদীপ সিং পুরী জানান, ই-২৫ চালুর আগে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার ফল হাতে এলেই তা গাড়ি নির্মাতা সংস্থা-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ই-৮৫ জ্বালানির রোলআউটও ধাপে ধাপে শুরু হয়েছে। নতুন পরিকাঠামো এবং পেট্রল পাম্প প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বিস্তার ঘটবে।
উল্লেখ্য, আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং কৃষকদের আখ-সহ বিভিন্ন ফসলের বিকল্প বাজার তৈরি করতেই দেশে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। তবে সেই নীতি ঘিরে বিরোধীদের প্রশ্ন এবং কেন্দ্রের পাল্টা ব্যাখ্যা— দুইয়ের জেরে বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।