কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে উত্তেজনা, সরব মমতা

“যারা রামের টাকা স্লোগান চুরি করে, লজ্জা থাকা উচিত।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে কালীঘাট তৃণমূলের ডাকা মিছিলে বুধবার ধুন্ধুমার হাজরায়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে মিছিল শুরু হলেও কিছু দূর এগোতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিল লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে। পাশাপাশি রাস্তার এক ধারে ‘মাছ চোর’ গান বাজানো নিয়েও শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।

কালীঘাট তৃণমূলের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা মিছিলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উসকানিমূলক স্লোগান ও গান বাজিয়ে উত্তেজনা ছড়ান। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরে ধস্তাধস্তিতে গড়ায়।

পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ঘটনাস্থলে মোতায়েন পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি আরও বিশাল বাহিনী পৌঁছে যায়। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মিছিল নির্ধারিত রুটেই এগিয়ে যায়।

এই ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমার বাড়ির সামনে বিজেপির ভাড়াটিয়া গুন্ডারা বিনা হেলমেটে ঘুরে বেড়িয়েছে। আমাকে হুমকি দিয়েছে, ভয় দেখিয়ে গিয়েছে। সবকিছু দেখেও স্রেফ দর্শকের ভূমিকায় ছিল পুলিশ।”
এরপরই মমতার কটাক্ষ, “সরকারে কীভাবে এসেছ আমরা সবাই জানি। কিন্তু যখন ক্ষমতায় এসেছ, সরকারটা ঠিক করে চালাও। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখো। মানুষকে সুবিচার পাইয়ে দাও। তা না করে আমাদের হাউজ অ্যারেস্ট করে রেখেছে। পুলিশ আমাদের উপর সর্বক্ষণ নজর রাখছে। অথচ যেখানে মেয়েরা ধর্ষিতা হচ্ছে, সেখানে নজর নেই পুলিশের। “
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, “সকাল থেকে ডিজে বাজিয়ে ভাড়াটিয়া লুম্পনদের নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি। মেয়েদের গায়ে হাত দিয়েছে, মারধর করেছে। ছেলে মেয়ে উভয়কেই মেরে রক্ত বের করে দিয়েছে। আমি তাদের উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম।”

এরপরই মমতার প্রশ্ন- “এই পরিবর্তন কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল ?”
ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপির চেয়েও বেশি দোষ পুলিশ প্রশাসনের। তারা কেন এই অনাচার হতে দেখেও মুখ বুজে রয়েছে ?”
“আমরা আইন মেনে চলি বলে, কোর্টে গিয়ে পারমিশন নিয়েছি। কোর্ট বলেছে হ্যান্ডমাইক নিয়ে কালীঘাট থেকে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি পর্যন্ত মিছিল করা যাবে। তা সত্বেও আমাদের মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যাতে তৃণমূলের কর্মীরা প্রতিবাদ করতে না পারে। “
অযোধ্যায় রামমন্দিরে প্রণামী বাক্সে চুরির ঘটনার রেশ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা রামের টাকা স্লোগান চুরি করে, প্রণামী বাক্সের টাকা চুরি করে খায়, তাদের লজ্জা থাকা উচিত। রামের নামে স্লোগান দিয়ে যারা রামের নাম বদনাম করছে। তাদেরকে বলবো – রামের নাম বদনাম করো না।”