গোয়েন্দাদের হিট লিস্টে A++ ক্যাটাগরিতে থাকা এই জঙ্গির মৃতদেহ বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর বড় সাফল্য। দক্ষিণ কাশ্মীরের সইদপোরা এলাকায় পাঁচ দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানের পর এক সন্দেহভাজন লস্কর-ই-তইবা জঙ্গিকে এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গির দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোপিয়ানের ৭ গ্রাম জুড়ে চিরুনি তল্লাশির পর অবশেষে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হল লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ কমান্ডার জাকির গানাইয়ের। গোয়েন্দাদের হিট লিস্টে A++ ক্যাটাগরিতে থাকা এই জঙ্গির মৃতদেহ বুধবার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, পাঁচ দিন আগে সইদপোরা এলাকায় একটি ঘন ফলের বাগানে নজরদারি ক্যামেরায় দুই জঙ্গির গতিবিধি ধরা পড়ে। এরপরই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। জানা যায়, সেখানে লুকিয়ে রয়েছে লস্কর-ই-তইবার কমান্ডার জাকির গনাই এবং তার সহযোগী লতিফ ভাট।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি জাকির ও লতিফ সইদপোরার ছানাপোরা এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এরা দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগামের বাসিন্দা। সেই তথ্য পাওয়ার পরই দ্রুত এলাকা ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। শুরু হয় কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। জঙ্গিদের পালানোর সমস্ত সম্ভাব্য রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং গোটা বাগান এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী।
অভিযানে অংশ নেয় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, ভারতীয় সেনার রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং সিআরপিএফ। জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেললে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এনকাউন্টারের পর এক জঙ্গিকে খতম করতে সক্ষম হয় বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ভিক্টর ফোর্স পুরো অভিযানের নেতৃত্ব দেয়। জঙ্গিরা যাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালাতে না পারে, সেজন্য বাগান এলাকা আলোকিত করা হয় এবং প্রতিটি সম্ভাব্য পালানোর পথ কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়।
এনকাউন্টারের পর জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বার্তা পোস্ট করে জানায়, দৌড়াতে পারো, কিন্তু লুকিয়ে থাকতে পারবে না। এই বার্তার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেওয়া হল। একই সঙ্গে দ্বিতীয় জঙ্গির খোঁজেও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, দক্ষিণ কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ দমনে এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। গত কয়েক মাসে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে উপত্যকায় সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাহিনীর দাবি, ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান চলবে এবং সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলার উদ্দেশে জড়ো হওয়া ৬ পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতরা সকলেই পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টির দলের সক্রিয় সদস্য। এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে।
গোপন সূত্রে দিল্লি পুলিশের কাছে খবর আসে যে, রাজধানী ও তার আশেপাশের এলাকায় একটি বড়সড় নাশকতার চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটির সুতো বাঁধা রয়েছে পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভট্টি এবং আজমল গুজ্জরের সঙ্গে। এরা শুধু ভারতেই বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক কষছিল না, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো মারাত্মক অপরাধের সঙ্গেও জড়িত।
তথ্য পাওয়ার পরেই কোমর বেঁধে মাঠে নামেন গোয়েন্দারা। দিল্লি, পাঞ্জাব এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক এলাকায় একযোগে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশের সেই সাঁড়াশি অভিযানের জেরেই শেষ পর্যন্ত জালে ধরা পড়ে ওই ৬ জঙ্গি। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন আধিকারিকরা। এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়ানো এবং এদের মূল পরিকল্পনা কী ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
ধৃত জঙ্গিদের থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, তাজা কার্তুজ এবং পেট্রল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। সম্প্রতি রাঁচিতে আরএসএস কার্যালয়ে পেট্রল বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। ধৃতদের কাছ থেকেও পেট্রল বোমা মেলায় এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানে বসে থাকা অপরাধচক্রের চাঁইরা ভারতের মাটিতে ধারাবাহিক নাশকতা চালানোর জন্য এই মডিউলটিকে তৈরি করেছিল। তবে এই ধরণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়, গত মাসেও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল একই চক্রের, অর্থাৎ শাহজাদ ভট্টি ও আজমল গুজ্জরের গ্যাংয়ের আরও ৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছিল। পরপর দুই মাসে এই বড়সড় সাফল্যের ফলে দেশের একটি বড়সড় জঙ্গি মডিউল ভেঙে দেওয়া সম্ভব হল বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। গোটা ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।