তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে হামলার অভিযোগ, ৪১ কর্মী আক্রান্ত দাবি তৃণমূলের। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মমতার।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কালীঘাট থেকে হাজরা পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল। দলের অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন সংগঠিত হামলায় তাদের অন্তত ৪১ জন কর্মী-সমর্থক গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েক জন মহিলা কর্মীকেও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছে শাসকদল। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
বুধবার সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তৃণমূলের অভিযোগ, ‘‘ঘৃণা ও হিংসার রাজনীতির জেরে আমাদের ৪১ জন কর্মীকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। বহু জন গুরুতর আহত হয়েছেন। মহিলা কর্মীদেরও নিগ্রহের শিকার হতে হয়েছে।’’ দলের দাবি, হামলার সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেনি।
তৃণমূলের অভিযোগ, আহত কর্মীদের শেষ পর্যন্ত এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে দলের উদ্যোগেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ গোটা ঘটনার সময় ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পরেও গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে দল পিছিয়ে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, ‘‘হিংসা, অন্যায় এবং বিরোধী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার প্রতিটি চেষ্টা মানুষের মনে থাকবে। আমাদের লড়াই আরও জোরদার হবে।’’
এ দিন মিছিলে যোগ দিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের অনুমতি নিয়েই মিছিল করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এটাই কি বাংলার মানুষ চেয়েছিলেন?’’
মমতার অভিযোগ, কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি ছড়ালেও পুলিশ কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘এখানে আমাদের উপরে নজরদারি চলছে, কিন্তু যেখানে মহিলাদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, সেখানে পুলিশ নেই। কালীঘাট থেকে বালিগঞ্জ পর্যন্ত অশান্তি চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে মিছিল করলাম, তবু হামলার মুখে পড়তে হল।’’
এ দিনের ভাষণে রামমন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘যাঁরা রামের নামে টাকা লুট করেন, তাঁদের লজ্জা হওয়া উচিত।’’
সবমিলিয়ে বারুইপুরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হচ্ছে মানুষজন। তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিজেপি সরকারকে বিঁধেছে তৃণমূল কংগ্রেসও। তাতেই আরও তীব্র হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা।