প্রভাস এনকাউন্টারের পর আতঙ্কে আর এক অভিযুক্তের পরিবার! আদালতে তোলা হচ্ছে কবির মোল্লাকে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: বারুইপুরের সূর্যপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কবির মোল্লাকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারেন তদন্তকারীরা।
এর আগে এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে বসিরহাট থেকে কবির মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, গ্রেফতারের পর ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি, প্রভাস পালানোর চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়েছিল। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারের ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিচারবিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
প্রভাসের মৃত্যুর পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছে পুলিশ হেফাজতে থাকা দিবাকর সর্দারের পরিবার। তাঁদের আশঙ্কা, দিবাকরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। দিবাকরের ভাই ভাস্কর সর্দার বলেন, “যদি আমার ভাই দোষী হয়, তাহলে আদালত ও আইন যে শাস্তি দেবে আমরা তা মেনে নেব। কিন্তু এনকাউন্টার করা উচিত নয়। আইন নিজের পথে চলুক।”
একই দাবি করেছেন দিবাকরের ভাইয়ের স্ত্রী মিলি সর্দার। তাঁর বক্তব্য, “আদালত যখন অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে, তখন একজনকে রাতে তদন্তের নামে নিয়ে গিয়ে এনকাউন্টার করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর থেকেই আমরা আতঙ্কে রয়েছি।”
দিবাকরের মা-ও দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে নির্দোষ। তাঁর কথায়, “দিবাকর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। প্রভাস মণ্ডল ওর নাম জড়িয়েছে। যদি ও সত্যিই অপরাধে জড়িত থাকত, তাহলে ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেত।”
যদিও এই দাবির সত্যতা সম্পর্কে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তদন্তকারীরা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দিবাকর সর্দারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ধৃত কবির মোল্লার কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন।
একদিকে মূল মামলার তদন্ত, অন্যদিকে প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারকে ঘিরে শুরু হওয়া পৃথক তদন্ত—সব মিলিয়ে বারুইপুরের এই বহুচর্চিত ঘটনায় এখন নজর আদালত, সিআইডি এবং তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।