বারুইপুর-কাণ্ডে ‘এনকাউন্টার’ ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত তুঙ্গে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। একদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি, অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দাবি করেন, ‘‘তৃণমূল সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়। মানুষের টাকা যারা লুট করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।’’ বারুইপুর-কাণ্ডে অভিযুক্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাঁর দাবি, রাজ্যে ৩০০-রও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন, বহু ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। তবু তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায় অভিযুক্তের ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমি এই এনকাউন্টারে মৃত্যুর নিন্দা করছি। মুখ্যমন্ত্রী ও ডিজিপি বারুইপুর সফরের এক দিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। অভিযুক্তকে আদালতে হাজির না করে কেন গুলি করে মারা হল, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। আইনের শাসন এখানে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।’’ তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানান।
এ দিকে অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মা ছেলের দেহ নিতে অস্বীকার করেছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, দুই পুলিশকর্মী তাঁর বাড়িতে গিয়ে মৃত্যুর খবর জানান এবং হাসপাতালে যাওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি অসুস্থ স্বামীর কথা উল্লেখ করে হাসপাতালে যেতে অস্বীকার করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি যেতে পারব না। আপনারা যা করার করুন, আমার কোনও আপত্তি নেই।’’
পুলিশের দাবি, বুধবার ঘটনাস্থল পুনর্নির্মাণের সময় হেফাজতে থাকা প্রভাস মণ্ডল এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে প্রভাস গুরুতর জখম হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক কিশোরী গত শনিবার নিখোঁজ হয়। পরে একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের শুরু হয়েছে।