মোদীর নেতৃত্বে ‘নতুন বাংলা’র বার্তা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেবের। পাল্টা কটাক্ষ কুণালের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন সাংসদ সুষ্মিতা দেবকে। প্রার্থী ঘোষণার পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বাংলায় উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে সুষ্মিতা লিখেছেন, বিজেপির নেতৃত্ব তাঁকে মানুষের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের ভাবনা কোটি কোটি ভারতীয়কে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে মোদী সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাও বিজেপির নেতৃত্বে উন্নয়নের নতুন যুগে প্রবেশ করবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

একই সঙ্গে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূয়সী প্রশংসা করেন সুষ্মিতা। তাঁর বক্তব্য, অসমে দৃশ্যমান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হিমন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। অসম ও বাংলার মানুষের আস্থা বজায় রেখে তাঁদের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ।
বিজেপির এই রাজনৈতিক কৌশলকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, জনতার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষমতা না থাকায় ঘরোয়া গোপন আঁতাত শিবির খুলেছে বিজেপি। সংসদের দুই কক্ষ এবং বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধীদের দমিয়ে রাখতে ৩টি কৌশল অবলম্বন করেছে তারা। এই কারণেই রাজ্যসভার ভোটে বিজেপির ঝুঁকি কার্যত নেই।
দলবদল করা নেতাদের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল নেতা বলেন, যদি সত্যিই তাঁরা নিজেদের অবস্থানকে নৈতিক বলে মনে করেন, তবে সাংসদ বা বিধায়কের পদ ছেড়ে সাধারণ মানুষের কাছে নতুন করে জনসমর্থন চাওয়ার সাহস দেখানো উচিত ছিল। তাঁর দাবি, রাজ্যসভায় যাওয়ার পথ বেছে নিলেও লোকসভার দলত্যাগী নেতারা সেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। কারণ, ভোটের ময়দানে গেলে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, তা তাঁরা ভালভাবেই জানেন।

কুণাল ঘোষের আরও অভিযোগ, ‘‘বিপ্লব’’-এর দাবি করলেও বাস্তবে ভোটের মুখোমুখি হওয়ার সাহস নেই দলবদলুদের। তআগামী দিনে যদি তাঁরা জনগণের রায় নিতে মাঠে নামেন, তবে তৃণমূলের সমর্থকেরা ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ উপযুক্ত জবাব দেবেন। একই সঙ্গে বিজেপির ভোটাররাও তাঁদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলেও দাবি করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে বিজেপির দীর্ঘদিনের সংগঠনিক কর্মীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে কুণাল বলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে এত দিন রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে, তাঁদেরই এখন বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হচ্ছে বিজেপির কর্মীদের। তাঁর কটাক্ষ, ক্ষমতা থাকলে যে নেতারা দল বদল করেন, ক্ষমতা চলে গেলে তাঁরাই আবার সবার আগে সরে দাঁড়ান। এমন নেতাদের উপর ভরসা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।