রেকর্ডের পর রেকর্ড এমবাপ্পের

২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাসের পথে ফরাসি মহাতারকা!

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় ফুটবলারদের পরিচয় মেলে বড় ম্যাচেই। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে সেই পরিচয় আরও একবার দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। গোল, অ্যাসিস্ট, রেকর্ড এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ— সব মিলিয়ে গোটা প্রতিযোগিতায় কার্যত একক আধিপত্য দেখিয়ে চলেছেন ফরাসি তারকা। বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি, অথচ ইতিমধ্যেই একের পর এক নজির গড়ে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের কাতারে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলেছেন তিনি।

মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে এমবাপ্পের পারফরম্যান্স ছিল তাঁর দুরন্ত ছন্দেরই প্রতিফলন। ৭৭ মিনিট মাঠে থেকে একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। পাশাপাশি সফল পাস, সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণে ধারাবাহিক উপস্থিতি ফ্রান্সের জয়ে বড় ভূমিকা নেয়। নকআউট পর্বে চাপের মুহূর্তেও দলের ভরসা যে তিনিই, তা আরও একবার প্রমাণিত হয়।

চলতি বিশ্বকাপে ছয় ম্যাচে এমবাপ্পের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই আট গোল এবং তিনটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ ফ্রান্সের ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর। সেনেগাল, ইরাক, সুইডেন, প্যারাগুয়ে এবং মরক্কো— প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ভেঙে দিয়েছেন নিজের গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ে।

এই পারফরম্যান্সে একাধিক ঐতিহাসিক নজির গড়েছেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন আসরে ১০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখার কৃতিত্ব এখন তাঁর দখলে। ২০২২ বিশ্বকাপে ছিল ১০টি গোল-অবদান, আর ২০২৬-এ ইতিমধ্যেই সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা এখন ২০। এই তালিকায় তাঁর সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি। পাশাপাশি টানা তিনটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্তত তিনটি করে গোল করার নজিরও গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কারও নেই।

শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দলের জয়েও তাঁর অবদান অনন্য। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি জয়সূচক গোল করার রেকর্ড এখন এমবাপ্পের দখলে। আবার ফ্রান্সের জার্সিতে মাত্র ১০৪ ম্যাচে ৬৪ গোল ও ৩৬ অ্যাসিস্ট করে ১০০টি গোল-অবদানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি।

ওসমান ডেম্বেলের সঙ্গে তাঁর জুটিও ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ২০০২ সালের ব্রাজিলের রোনাল্ডো–রিভাল্ডোর পর এই প্রথম একই বিশ্বকাপে একটি দলের দুই ফুটবলার পাঁচ বা তার বেশি গোল করলেন।

বিশ্বকাপের আসর এখনও শেষ হয়নি। তবে ২৭ বছর বয়সেই এমবাপ্পে যে নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ তারকাদের আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে আর তেমন কোনও সংশয় নেই।