মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল এবং একটি বড় ধরণের আঞ্চলিক সংঘাত বা যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তেই রয়েছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ২০২৬ সালের শুরু থেকেই এই অঞ্চলে উত্তেজনার পারদ দ্রুত ওপরে উঠেছে এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ইঙ্গিত করছে যে পরিস্থিতি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে।
১. ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাত২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আলী খামেনেইসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এর পর থেকেই ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়, যা দীর্ঘদিনের ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা পরোক্ষ যুদ্ধকে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে রূপ দিয়েছে।
২. হরমুজ প্রণালী ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটবিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)-র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম উত্তেজনা চলছে।জুন মাসে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি (MoU) হলেও জুলাইয়ের শুরুতে ইরান প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর পুনরায় হামলা চালায়।এর জবাবে গত ৮-৯ জুলাই মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে।এর ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।
৩. লেবানন ও আঞ্চলিক অন্যান্য ফ্রন্টইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর পরই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক রকেট হামলা শুরু করে, যার ফলে ২০২৬ লেবানন যুদ্ধ নতুন মাত্রা পায়। লেবাননের জনসংখ্যার এক-ষষ্ঠাংশেরও বেশি মানুষ ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। একই সাথে ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।৪. উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্পৃক্ততাসাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাতের পরিধি আরও বেড়েছে। ইরান জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব এবং আমিরাতের মতো দেশগুলোও এখন সরাসরি প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।সারসংক্ষেপ: মধ্যপ্রাচ্য এখন আর কেবল গৃহযুদ্ধ বা সীমিত সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র, আঞ্চলিক শক্তি ইরান, ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোর সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কারণে এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা (যেমন সুইজারল্যান্ড আলোচনা) চললেও, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে কোনো পক্ষই ছাড় না দেওয়ায় এক বড় সামাজিক ও সামরিক বিপর্যয়ের দিকেই এগোচ্ছে পুরো অঞ্চল।