কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার যুবক!

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ফের নাবালিকাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সম্প্রতি এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। সেই আবহ কাটতে না কাটতেই এবার বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা এক নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ওই নাবালিকাকেও। পরে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা পারিবারিক অশান্তির জেরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। ট্রেনে চেপে সে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছয়। সেখানেই সামাদ আলি নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।
অভিযোগ, শিয়ালদহ স্টেশনে খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই নাবালিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে অভিযুক্ত। এরপর তাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে ট্রেনে করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের শাসন এলাকায় আসে। সেখানে একটি ভাড়াবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় নাবালিকাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই ভাড়াবাড়িতেই নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে সামাদ আলি। বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করেন। অভিযোগ, সেখানেই হাতেনাতে অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন তাঁরা। এরপর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর দেওয়া হয় বারুইপুর থানায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত এবং নাবালিকাকে থানায় নিয়ে যায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তের পর সামাদ আলিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত সামাদ আলির বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকায়। তিনি শাসন এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন। কী উদ্দেশ্যে তিনি নাবালিকাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে এমন কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না এবং এই ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, উদ্ধার হওয়া নাবালিকার সঙ্গে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যেই পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছে বারুইপুর থানার পুলিশ। পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাবালিকার বক্তব্যও রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তে প্রয়োজনে পকসো (POCSO) আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের ইঙ্গিত।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। তার মধ্যেই ফের এক নাবালিকাকে ঘিরে এমন অভিযোগ সামনে আসায় উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এই ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতা এবং পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বড় অপরাধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।