বদলে গেল লোকসভার সমীকরণ?

সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে ঘর শক্তিশালী করে গুছোতে মরিয়া তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে খুব একটা পরিচিত নাম নয় ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই। এমনকি রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের কাছেও দলটির সাংগঠনিক কাঠামো বা নেতৃত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে এই দলের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। ধলাই জেলার চৌমানু এবং উনকোটি জেলার কৈলাসহর। এই দুই কেন্দ্রে এনসিপিআই প্রার্থী দেয়। যদিও নির্বাচনী লড়াইয়ে দলটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার রাজনীতিতে এই দলের বিস্তার বেশ লক্ষ্য করা যায়। বঙ্গে তৃণমূলের পরাজয়ের পরই দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন ২০ জন সাংসদ।

নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী একটি অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র। এই দলেই নাম লেখান তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ। এই তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়রা। সোমবারই ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন সুদীপ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার। আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু। তার আগেই ঘর শক্তিশালী করে গুছোতে মরিয়া তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদ। এবার ঠিক হয়ে গেল এনসিপিআই-এর লোকসভার নেতাও।

সোমবারের বৈঠক থেকে সূত্র মারফত বেশ কয়েকটি তথ্য জানা যায়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই এনসিপিআইয়ের তরফে লোকসভার দলনেতা হচ্ছেন বলে খবর। তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এখন প্রশ্ন হল, বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ ব্যানার্জি এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েই বড় পদ পেলেন। এবার কী হবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের? কারণ, কাকলি বেশ কয়েক মাস তৃণমূলের লোকভার মুখ্যসচেতকের দায়িত্বভার সামলেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ের পরই মমতা ব্যানার্জির সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। মূলত তাঁর দৌত্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। কাকলিই জানান যে, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদের এনসিপিআই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারকে সমর্থন করবে ও এই জোটের সরিক হবে। ফলে দলে কাকলি-ও বড় দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর চর্চা শুরু হয়।

এমন চর্চার মাঝেই সূত্র মারফত জানা যায়, আরও এক বড় খবর। কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলে থাকাকালীন কয়েকদিনের জন্য লোকসভার মুখ্য সচেতক পদে ছিলেন। তাই এনসিপিআইও তাঁকেই মুখ্য সচেতকের পদে বসাচ্ছে। এছাড়া উপ দলনেতা হিসেবে রয়েছে বীরভূমের চারবারের সাংসদ শতাব্দী রায়ের নাম। পুরনো তৃণমূলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভায় দলনেতা ছিলেন, পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর জায়গায় আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, মুখ্যসচেতক হিসেবে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তবে ভোটের রেজাল্টের কয়েকদিনের মধ্যেই এই পদে পুনরায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরিয়ে আনা হয়। এনিয়ে ক্ষোভও উগরে দেন বারাসতের সাংসদ।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন সাংসদকে নিয়ে গঠিত এনসিপিআই এবার প্রথমবার পৃথক দল হিসেবে লোকসভায় বসবে। এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শাসক জোটের দিকেই হতে পারে তাদের আসন। তবে কে, কোন আসনে বসবে সেটা ঠিক করবে দলই। আগামী ২০ জুলাই থেকে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। তার আগেই ১৯ জুলাই কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদকে ডেকে পাঠান স্পিকার ওম বিড়লা। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই জানা যায়।

এদিকে ১৯ তারিখই সংসদে সর্বদলীয় বৈঠক রয়েছে। তবে এনসিপিআই এখনও লোকসভার রেকর্ডে নাম তুলতে পারেনি। সেক্ষেত্রে কাকলি, সুদীপরা ওই বৈঠকে থাকতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। স্পিকার আশ্বস্ত করেছন, তাঁদেরও বৈঠকে ডাকা হবে। আর এই সর্বদলীয় বৈঠকের আগেই এই ২০ জন সাংসদের কে কোথায় বসবে তা জানিয়ে দেবেন তিনি। দলবদল করে নতুন সংসদ ভবনে পৃথক কার্যালয় ও আসন পেলেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদরা। আর তাঁদের দৌলতে এই প্রথম সংসদে পৃথক দল হিসেবে লোকসভায় আলাদা আসনে বসার সুযোগ মিলল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার।