রথের দড়িতে টান অগ্নিমিত্রার

সিয়ারশোল রাজবাড়ির রথযাত্রায় পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের মন্ত্রী ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার।

ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা : রথের চাকা গড়াতেই ভক্তির জোয়ারে ভাসল দেশ। জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে মুখরিত হল পুরী থেকে দিঘা। আবার রানিগঞ্জও। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী শুভদ্রার বার্ষিক রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মন্দির চত্বর ও রাস্তাজুড়ে উপচে পড়ে ভক্তদের ঢল। শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং উৎসবের উন্মাদনায় এদিন এক অনন্য আবহের সাক্ষী থাকল দেশ।

বৃহস্পতিবার ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত ও পবিত্র পুরী রথযাত্রা। ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র, দেবী শুভদ্রা এবং সুদর্শন তাঁদের নিজ নিজ রথে চড়ে বার্ষিক গুণ্ডিচা মন্দির যাত্রা। প্রতি বছরের মতো এবছরেও ওড়িশার পুরীতে ভগবান জগন্নাথদেব, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র এবং ছোট বোন দেবী শুভদ্রাকে নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত রথযাত্রা। প্রতি বছর এই রথযাত্রা উৎসবে ভগবান জগন্নাথ ও তাঁর দুই সহোদর রথে আরোহন করে ভক্তদের দর্শন দেন। গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই গুণ্ডিচা মন্দিরকে ভগবান জগন্নাথের মাসির বাড়ি হিসেবে বলা হয়।

অন্যদিকে দিঘার রথ উৎসব এবছর দ্বিতীয় বর্ষে পড়ল। প্রথম বছরে নিরাপত্তার কারণে ভক্তরা ব্যারিকেডের বাইরে থেকে রথ দেখেছিলেন। শিকে ছিঁড়েছিল কেবলমাত্র ভিআইপি বা ভিভিআইপি-দের কপালে। কিন্তু, এ বার, দ্বিতীয় বছরে দিঘার রথের দড়িতে টান দেওয়ার সুযোগ সকলে। ফলে, দিঘা জুড়ে রথযাত্রা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা।

স্নানযাত্রার পরে অসুস্থতার কারণে জগন্নাথ, বলরাম সুভদ্রা ১৫ দিন নিভৃতবাসে থাকেন। বুধবার তাঁরা মন্দিরে ফেরেন। ভিড়ের কথা মাথায় রেখে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলায় জেলায় ঢেলে সাজছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরী ও দিঘার পাশাপাশি এবারে বিশেষ নজর কেড়েছে আসানসোলের রানিগঞ্জের সিয়ারশোল রাজবাড়ির রথযাত্রা। এ বছরে এখানে উপস্থিত হন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের মন্ত্রী ডঃ অজয় কুমার পোদ্দার। রথে টান দেন দুই মন্ত্রীর।

রানিগঞ্জের রথযাত্রা ঘিরে ব্যাপক ভক্ত সমাগম ঘটে। ভক্তির টানে, ঐতিহ্যের বন্ধনে আর উৎসবের আবেগে বৃহস্পতিবার রথের দড়িতে একসঙ্গে হাত রাখলেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। পুরীর শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা থেকে দিঘার নতুন আকর্ষণ। আবার রানিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ির রথ। সর্বত্রই ধ্বনিত জয় জগন্নাথ। ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির এই মহোৎসবকে ঘিরে দিনভর উৎসবের আবহ, আর সেই আবেগেই রথের চাকার সঙ্গে এগিয়ে চলল অগণিত ভক্তের প্রার্থনা ও বিশ্বাস।