‘বিশ্বাসঘাতক’, বিদ্রোহী সাংসদদের নিশানায় সৌগত, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গেল। দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়ে এনডিএ-কে সমর্থন করার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। বিদ্রোহীদের সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করেন তিনি।
সোমবার সৌগত বলেন, ‘‘ওরা নিজেদের কমিটি গড়তেই পারে। কিন্তু ওরা বিশ্বাসঘাতক। যে দল ও প্রতীক নিয়ে জিতেছে, সেই দলকেই ছেড়ে দিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটে জিতে এখন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র সঙ্গেই চলে গিয়েছে।’’
বিদ্রোহী শিবির ইতিমধ্যেই লোকসভায় পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে। সেই দলের নেতা করা হয়েছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব পেয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রবিবার সর্বদল বৈঠকের জন্য তাঁদের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আমন্ত্রণ বিদ্রোহী শিবিরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।
অন্যদিকে, তৃণমূলকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের লক্ষ্য সংসদে গঠনমূলক আলোচনা নয়, বরং অধিবেশন অচল করা। তাঁর দাবি, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হোক, তা বিরোধীরা চায় না। কেয়ার কথায়, ‘‘মানুষ বারবার নরেন্দ্র মোদীর উপর ভরসা রেখেছে। দেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে, আর সেটাই বিরোধীদের আপত্তির কারণ।’’
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি নেত্রীর আরও মন্তব্য, এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদ প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সব প্রক্রিয়া মেনেই তাঁরা এগোচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ করে কেয়া বলেন, ‘‘তৃণমূল এখন প্রত্যাখ্যাত প্রেমিকের মতো আচরণ করছে।’’
উল্লেখ্য, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। আগামী ১৩ অগস্ট পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিলের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক অস্থিরতাও জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।