ককরোচদের সংসদ অভিযানে ধুন্ধুমার !

আন্দোলনকারীদের রুখতে ১৬৩ ধারা জারি করে রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে দিল্লি পুলিশ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানকে ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে দিল্লি। আন্দোলনকারীদের রুখতে ১৬৩ ধারা জারি করে রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে দিল্লি পুলিশ। তা উপেক্ষা করেই সংসদের উদ্দেশে মিছিল করে সিজেপি। কিছুদূর এগোতেই ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জও করে পুলিশ। অশান্তির আশঙ্কার দিল্লির পাঁচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন—রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ সাধারণ যাত্রীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়িয়ে প্রায় ৮ হাজার মানুষ সংসদ অভিযানে অংশ নেন। জমায়েত শুরু হতেই পুলিশ তাঁদের বাধা দিতে শুরু করে। কিন্তু কোনওভাবেই আন্দোলনকারীদের দমানো যায় নি। এরপরই চলে লাঠিচার্জ। সোমবার সংসদে বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন। সিজেপি এই দিনের কর্মসূচির ঘোষণা অনেক আগেই করে দিয়েছিল। প্রায় এক মাস ধরে চলা নিট কাণ্ডের প্রতিবাদ যত দিন এগিয়েছে তত তীব্র হয়েছে।
জুন মাসের শেষে লাদাখের সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক যন্তরমন্তরে আমরণ অনশনে বসেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিও হয়েছে। অবশেষে ২১ দিনের মাথায় গত শনিবার হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে দিল্লি পুলিশ সোনামকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এনিয়েও বিতর্ক হচ্ছে।
স্বামীর অবর্তমানে সোমবার সংসদ অভিযানের মিছিলে প্রতিনিধিত্ব করার ঘোষণা করেছিলেন সোনাম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলী আংমো। ককরোচদের সংসদ চলো অভিযানকে সমর্থন করে দিল্লিতে যন্তর মন্তরে হাজির হন দক্ষিণী তারকা প্রকাশ রাজ। এছাড়াও আজাদ সমাজ পার্টি-কাংসিরামের সভাপতি তথা সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ এবং তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও সিজেপির এই অভিযানে সামিল হন।

দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২৫টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মোতায়েন করা হয়, যার মধ্যে মহিলা কর্মীরাও ছিলেন। এছাড়া যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান এবং দাঙ্গা বিরোধী বজ্র গাড়ি।
অন্যদিকে, সোমবার সংসদ অভিযানের আগে ককরোচ পার্টির তরফে দাবি করা হয়, কেন্দ্রের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। সংসদ অভিযানের ঠিক আগে সিজেপির এই দাবি শোরগোল ফেলে দেয়।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রের তরফে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছে। যদিও এখনও স্পষ্ট নয় সরকার পক্ষের কোনও মন্ত্রী বা আধিকারিকের তরফে তাঁদের কাছে আলোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে কিনা। সরকারও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সৌরভের দাবি, তারা অনেক দেরিতে এসেছেন ঠিকই, তবে আমরা মন খুলে বলেছি। জানিয়েছি, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছুক। এখনও পর্যন্ত ওদের পক্ষ থেকে কোনও স্পষ্ট বার্তা আসেনি। সিদ্ধান্ত এখন সরকারের।

তবে বিকেলের দিকে খবর আসে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে সিজেপির দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। তাঁরা নাড্ডার হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে তাঁদের দাবিদাওয়া জানান।

এদিকে অনশন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়ে ৩টি শর্ত দিয়েছেন সোনাম ওয়াংচুক। হাতে লেখা একটি খোলা চিঠি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। যেখানে লেখা, আপনারা জানতে চাইছেন আমি অনশন কবে ভাঙব। আগেই বলেছিলাম, আমি ২০ জুলাই অনশন ভাঙতে পারি যদি সরকার শিক্ষাব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতাগুলির দায় নেয়। বা আমি এবং সিজেপি নেতৃত্ব সংসদে যেতে পারলে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-সাংসদেরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দেন বা শারীরিক এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে আমি সংসদে যেতে না-পারলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা হাসপাতালে এসে আমার সঙ্গে দেখা করে ওই আশ্বাস দেন।
সবশেষে একটা কথা বলা যায়, ককরোচ জনতা পার্টির এই সংসদ চলো অভিযান দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যুবসমাজের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। সপ্তাহের প্রথম দিনে যন্তর মন্তর চত্বরে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে মিছিল রুখে দেওয়া হলেও, সোনাম ওয়াংচুকের অনশন এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই লড়াই সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুতেই সরকারকে বড়সড় জবাবদিহির মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। সাময়িকভাবে রাজপথ ফাঁকা করা সম্ভব হলেও, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না এলে এই অসন্তোষের আগুন যে সহজে নিভবে না, দিল্লির পরিস্থিতি সেই বার্তাই দিচ্ছে।