ডিম ভাতের বদলে শশা মুড়ি চিবিয়ে নেত্রীর বার্তা শুনলেন মাথা দুলিয়ে। সত্যি কি ভোটে হারার পর মমতা আবেগ ভ্যানিশ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস থেকে কয়েক মিটার দূরেই তারামণ্ডল। এবারের ২১ জুলাইয়ে ডেস্টিনেশন। তবে কাদের ডেস্টিনেশন। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। আর এর উত্তর হল মতাপন্থী তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের। যারা এখনও জার্সি বদল না করে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করেই তৃণমূল কর্মী হিসাবেই রয়ে গেছেন। যারা ডিম ভাতের বদলে শশা মুড়ি চিবিয়ে নেত্রীর বার্তা শুনলেন মাথা দুলিয়ে। সত্যি কি ভোটে হারার পর মমতা আবেগ ভ্যানিশ? নাকি ছোটগল্পের মতো শেষ হয়েও হইলো না শেষ।
দুঃসময়ে যে কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনার খনি বলছেন তাঁরা কি সত্যিই ভবিষ্যতে নেত্রীর লড়াইয়ে পাশে থাকবেন। নাকি ভয়, ভীতির কাছে আবেগের জলাঞ্জলি দেবেন। ২১ জুলাই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল তার জবাব যেন দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হয়তো প্রমাণ করলেন ফুরিয়ে যাননি। লড়াই এখনও বাকি। কেন বলুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিড় টানলেন, কোথায় লুকিয়ে তাঁর ইউএসপি। ২১ জুলাইয়ের আগের রাতে তাঁর কানে গিয়েছিল মঞ্চ ভাঙার পরিকল্পনা চলছে। যা শুনে আটপৌড়ে শাড়ি পড়েই সারা রাত মঞ্চ পাহাড়া দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলল ফেসবুক লাইভ। যা শেয়ার হয় হু হু করে। এমনকি হাইকোর্টেও মামলা দায়ের করা হয় কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে।
এরপরেই সকাল হতেই ২১ জুলাইয়ে চেনা ছবিতে বদল। জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ছবিতে শূন্যতা। কোথায় তৃণমূল কর্মীরা। কোথায় সেই স্থলপথ থেকে জলপথের ভিড়। সবই যেন ফাঁকা ফাঁকা। তবে বেলা গড়াতেই সেই ছবি কিছুটা বদল ঘটে। তৃণমূল কর্মীদের আবেগ ধরা পড়ে তারামণ্ডলের সামনে। মঞ্চের সামনে রাস্তাতেই তাঁরা বসে গান, স্লোগানিং করতে থাকেন। ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল যেভাবে এতদিন শহিদ দিবস পালন করেছে সেই ছবিতে ছেদ পড়লেও কর্মীদের আবেগ ম্লান হয়নি। ডিম, মাংস ভাত পাতে না পড়লেও শুকনো মুড়ি শসা চিবিয়ে নেত্রীর বার্তা শোনার অপেক্ষা চোখে পড়ে তারামণ্ডলের সামনে। মঞ্চে তখন কুণাল ঘোষ মাইক হাতে গর্জন করছেন , তাঁদের কীভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে।
যদিও মঞ্চ বাঁধার আগে থেকেই ২১ জুলাই করা নিয়ে নানা বাধা বিপত্তি পেরোতে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কোথায় ২১ জুলাই হবে তা নিয়ে চলে টানাপোড়েন। শেষমেশ বিড়লা তারামণ্ডলে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয় কালীঘাট তৃণমূলকে। কিন্তু বেঁধে দেওয়া হয় সভায় জমায়েতের সংখ্যা। মাত্র আড়াই হাজার কর্মী নিয়ে সভা করার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু কোর্টের নিয়মে কি আবেগ বাঁধা যায় ? তার প্রমাণ দিল তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস। আর এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফল্য। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভিড়ের নিরিখে এগিয়ে কালীঘাট তৃণমূল। তারামণ্ডলের সামনে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন পুরো ভরাট হয়ে যায়। পাশের লেনেও অনেকেই দলের পতাকা হাতে ভিড় জমান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ অবশ্য শহিদ স্মরণ কিন্তু যে পরিস্থিতি এই মঞ্চ বাধা তখন দল পুরো ভেঙে খান খান। গতবছর বা তার আগের বছরের ২১ জুলাইয়ের মঞ্চের ছবিটা মনে করুন। কত মানুষ,ছায়াসঙ্গীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে থাকতেন। আজ সবটাই ফাঁকা। ফিরহাদ, মদন, অনুব্রত, শতাব্দী, রচনা, কাকলী ঘোষ দস্তিদার সবাই ভিড়েছেন ঋতব্রত গোষ্ঠীতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বড় ভরসা এখন শুধুই কর্মীরা। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া দলটাকে ফের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করতে চাইছেন তিনি। আর সেই লড়াইয়ে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভিড় টানা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জে কিছুটা হলেও উতরোতে পারলেন তৃণমূল নেত্রী। যেটা হয়তো আগামীর লড়াইয়ে তাঁকে অক্সিজেন দেবে।
দড়ি টানাটানিতে ২১ জুলাই একটু ম্রিয়মান হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের মুখ রেখেছে দলের কর্মীরায়। যারা রোদ ঝড় বৃষ্টিতে পতাকা কাঁধে জয় বাংলা বলে স্লোগান তোলেন। যারা ভুলচুক হলেও দলের অন্দরে অক্সিজেনের অভাব বোধ করেন না। যারা তৃণমূল বলতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বোঝেন। তাঁরাই ২১ জুলাইয়ের চ্যালেঞ্জে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথানত করতে দিলেন না। তাঁরা বিরোধীদের কটাক্ষকেই যেন মান্যতা দিলেন তৃণমূলের একটাই পোস্ট, বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট।