কালো পোশাকে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ

শিক্ষা ও বেকারত্ব ইস্যুতে প্রতিবাদীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের ঘটনায় কেন্দ্রকে নিশানা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নিট-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা এবং বিরোধী সাংসদদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগকে সামনে রেখে বুধবার সংসদ চত্বরে প্রতিবাদে সরব হল বিরোধী শিবির। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দলের সাংসদেরা কালো পোশাক পরে সংসদে এসে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। বিরোধীদের দাবি, এটি ছিল গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ এবং ছাত্রদের উপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাক ডে’ পালন।

সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য সাংসদের সঙ্গে পুলিশের যে আচরণ হয়েছে, তার প্রতিবাদেই তাঁরা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ করছেন। তাঁর কথায়, ‘‘গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েও সাংসদদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’’

এ দিন কেন্দ্রকে আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সাংসদ সঞ্জয় যাদব। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে ১৫০-রও বেশি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে দেশে গত পাঁচ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারত্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার একদিকে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা প্রচার করছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-যুবকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রশ্নফাঁস ও কর্মসংস্থানের দাবিতে রাস্তায় নামা যুবকদের উপর পুলিশি দমন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এই প্রতিবাদের সূত্রপাত মঙ্গলবারের ঘটনাকে ঘিরে। সেদিন লোক কল্যাণ মার্গের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক হওয়ার সময় প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘‘ওরা ভয় পেয়েছে। আমরা ভয় পাই না।’’

মঙ্গলবার দিল্লির পাশাপাশি তিরুবনন্তপুরম, গুয়াহাটি, জবলপুর এবং ভুবনেশ্বরেও কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ছাত্রদের ন্যায্য দাবিকে দমন করতে সরকার পুলিশি শক্তি ব্যবহার করছে এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ছাত্র আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে আগামী দিনেও সংসদের ভিতরে ও বাইরে কেন্দ্রকে ঘিরে চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে বিরোধী জোট।