ফাইনালের আগেই তাল কাটে মেসিদের !

মেসিকে বলতে শোনা যায়, – “শান্ত থাকো, সবকিছু ভুলে যাও, শুধু খেলায় মনোযোগ দাও।”

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপ শেষ। কিন্তু আলোচনার শেষ নেই। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছে আর্জেন্তিনার। ম্যাচের ফলের থেকেও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ফাইনালের আগে আর্জেন্তিনার ড্রেসিংরুমের একটি ভিডিও। সেই ভিডিওর একটি ছোট অংশ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা। সেখানে লিওনেল মেসিকে বলতে শোনা যায়, – “শান্ত থাকো, সবকিছু ভুলে যাও, শুধু খেলায় মনোযোগ দাও”

এই কয়েকটি কথাকেই কেন্দ্র করে অনেকেই দাবি করতে শুরু করেন ম্যাচের আগে আর্জেন্তিনা শিবিরে বড় ধরনের অশান্তি হয়েছিল। কেউ কেউ আবার আরও একধাপ এগিয়ে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে দাবি করেন ফাইনালের ফল আগেই নির্ধারিত ছিল কিংবা দলকে চাপে ফেলে হারতে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ ভিডিও সেই সমস্ত জল্পনায় অনেকটাই ইতি টানে। নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে কোনও বিশৃঙ্খলা নয়, বরং ম্যাচের কৌশল নিয়েই আলোচনা করছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। গোলকিপার এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ রক্ষণভাগকে স্পেনের আক্রমণ সামলানোর পরামর্শ দিচ্ছিলেন। রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস সকলেই নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছিলেন। লামিনে ইয়ামালকে কীভাবে আটকাতে হবে, স্পেনের উইং আক্রমণ কীভাবে রুখতে হবে এবং রক্ষণভাগের অবস্থান কেমন হবে তা নিয়েই ছিল মূল আলোচনা। মেসিও সতীর্থদের শান্ত থাকার এবং শুধুমাত্র ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্য কোনও গোপন সংঘর্ষ বা ড্রেসিংরুমের অশান্তির ইঙ্গিত ছিল এমন কোনও প্রমাণ পূর্ণাঙ্গ ভিডিওতে পাওয়া যায়নি।

এই বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আর্জেন্তিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও স্পষ্ট করে জানান, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার গুঞ্জনে গুরুত্ব দেন না ও এমন কোনও ঘটনার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। ফলে ড্রেসিংরুমে অশান্তির কারণেই আর্জেন্তিনা ফাইনাল হেরেছে এমন দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে আসেনি। বরং ফুটবল বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশের মতে, অতিরিক্ত সময়ে স্পেন নিজেদের পারফরম্যান্সের জোরেই ম্যাচ জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেছে।

এখানেই বিতর্ক এখানেই থামেনি। ফাইনাল শেষ হওয়ার পর মাঠে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আর্জেন্তিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে স্পেনের গাভি ও এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। প্রথমে অনেক জায়গায় দাবি করা হয়েছিল, তাঁকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। পরে ফিফা জানায়, সেই তথ্য ভুল ছিল এবং ম্যাচ শেষে কোনও লাল কার্ড রেকর্ড করা হয়নি। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ফিফা পুরো বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। দেশে ফিরে পারেদেস সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করলেও, সেখানে ফাইনালের মারামারি বা নিজের আচরণের জন্য কোনও ক্ষমা চাননি। তিনি লেখেন, দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ এনে দিতে না পারার কষ্ট রয়েছে। কিন্তু দলের হয়ে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার জন্য তিনি গর্বিত। সতীর্থদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই দলের অংশ হতে পারা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। মাঠে বিতর্কিত ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব থাকেন তিনি।

অন্যদিকে স্পেনের তরুণ মিডফিল্ডার গাভি আশ্চর্যজনকভাবে পারেদেসের কঠোর শাস্তি চাননি। তাঁর মতে, ম্যাচের উত্তেজনায় এমন ঘটনা ঘটে থাকে। আর এই বিষয়টি আর না বাড়ানোই ভালো। তবুও ফিফা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পারেদেস-সহ আর্জেন্তিনার কয়েকজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়ে গেলেও বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। ড্রেসিংরুমে সত্যিই কি কোনও অশান্তি হয়েছিল? নাকি সবটাই সোশ্যাল মিডিয়ার জল্পনা।