বিধানসভা থেকে বহিষ্কৃত কুণাল ঘোষ!

লোকসভায় সাসপেন্ড কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়— উত্তপ্ত রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতি

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একইদিনে বিধানসভা ও লোকসভায় তৃণমূলের দুই নেতাকে ঘিরে নজিরবিহীন বিতর্ক। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের বক্তব্যে বাধা দেওয়ায় তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে দিনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করলেন স্পিকার। অন্যদিকে, সংসদে মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের অবশিষ্ট সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হল তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনা চলাকালীন বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামানের বক্তব্যে একাধিকবার বাধা দেন কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পিকার তাঁকে দিনের জন্য সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন। স্পিকারের নির্দেশের পর মার্শালরা কুণালকে কার্যত জোর করেই সভাকক্ষের বাইরে নিয়ে যান। পরে মন্ত্রী তাপস রায় স্পিকারের কাছে প্রস্তাব দেন, চলতি অধিবেশন থেকেই কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করা হোক।

ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কুণালের আচরণকে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, ‘‘বিরোধী আসনে থাকলেও কিছু দায়িত্ববোধ থাকা দরকার। আখরুজ্জামান একজন প্রবীণ বিধায়ক। তাঁর বাবা দীর্ঘদিন বিধায়ক ছিলেন। এই ধরনের আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’

এ দিকে, দিল্লিতেও তৃণমূলকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল একটি প্রস্তাব এনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করার আবেদন জানান। অভিযোগ, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন তিনি মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে আপত্তিকর ও অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন। সভাপতিমণ্ডলীর দায়িত্বে থাকা টিডিপি সাংসদ কে পি তেন্নেটি জানান, স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পরে কণ্ঠভোটে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সংসদের কার্যক্রম চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নজিরবিহীন আচরণ করেছেন এবং মহিলা সদস্যদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বিরুদ্ধেও কটূক্তি করেছেন।

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারও কল্যাণের সাসপেনশনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মহিলা সদস্যদের লক্ষ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। বুধবারও তিনি মহিলা সাংসদদের উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’’

একই দিনে রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে তৃণমূলের দুই নেতাকে ঘিরে বিতর্কের জেরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে।