২৪ ঘণ্টায় একাধিক নাটকীয় মোড়! ক্ষোভ উগরে মমতার বিরুদ্ধে বার্তা, বিজেপি সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ, বিদ্রোহীদের কড়া হুঁশিয়ারি কল্যাণের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা সামনে এল। কখনও দলের অন্দরে নিজের ‘অপমান’-এর অভিযোগ তুলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন, কখনও সংসদ চত্বরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দেখা গেল তাঁকে। দিনের শেষে আবার বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট করে কল্যাণ অভিযোগ করেন, শহিদ দিবসের সভায় বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে একাধিক বার থামতে হয়েছিল। তাঁর দাবি, দলের একটি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য পৌঁছে দিচ্ছে। এমনকি ‘কালিঘাট সূত্র’-এর বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি লেখেন, এই ধরনের রাজনীতি চলতে থাকলে দলই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কল্যাণের বক্তব্য, তিনি ভাষণ দেওয়ার সময় প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে পৌঁছন। অভিষেক মঞ্চে ঘোরাফেরা করায় প্রায় পাঁচ মিনিট বক্তৃতা থামিয়ে রাখতে হয় তাঁকে। পরে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসার পরেও আবার বক্তব্য থামাতে হয়। তিনি জানান, মমতাকে জিজ্ঞাসা করে তাঁর সম্মতি পাওয়ার পরেই ফের বক্তৃতা শুরু করেন।
নিজের দলের প্রতি আনুগত্যের কথাও তুলে ধরেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, গত দু’মাসে অন্য কোনও নেতা জেলায় জেলায় ঘুরে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সাহস দেখাননি। সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অনেকে দূরে থাকলেও তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন।
এর মধ্যেই বুধবার সকালে লোকসভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর সংসদ ভবনের বাইরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় কল্যাণকে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। এই সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা তৈরি হলেও শমীকের দাবি, তিনি সকলের সঙ্গেই কথা বলেন, এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
দিনের শেষে অবশ্য আবার আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় কল্যাণকে। বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করলেই লড়াই থেমে যাবে না। তাঁর কথায়, ‘‘ওরা সংখ্যায় কুড়ি জন হলেও বাংলায় কুড়িটি ভোটও নেই। ওরা বিশ্বাসঘাতক।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘদিন টিকবে না এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে।