প্রশ্নফাঁস বিতর্কে সংসদে বিক্ষোভ !

ধমের্ন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব বিরোধীরা, পাল্টা পথে এনডিএ

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে বৃহস্পতিবারও উত্তপ্ত থাকল সংসদ চত্বর। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভে সামিল হল বিরোধী শিবির। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীও। অন্যদিকে, লোকসভা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের প্রতিবাদে পাল্টা বিক্ষোভ দেখান এনডিএ-র সাংসদেরা।

এই রাজনৈতিক সংঘাতের মাঝেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রথমবার মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যাঁরা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবেন, তাঁদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।

তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস হতে দিয়েছে কেন্দ্র। তাঁর দাবি, প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ীদের সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের কাছে সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তিনি।

কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, সংসদে এসে সরাসরি বিতর্কে অংশ নেওয়ার সাহস প্রধানমন্ত্রীর নেই। তাঁর কথায়, সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তা আসলে সরকারের অস্বস্তিরই বহিঃপ্রকাশ।

এদিকে, দিল্লির টলস্টয় মার্গ ও জনপথ এলাকায় ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভও অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা বিজেপি, আরএসএস এবং দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েক জন রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। কেউ কেউ রাস্তায় শুয়ে পড়েন, আবার অভিযোগ, কয়েক জন বোতলও ছুড়ে মারেন।

বিহার থেকে আসা এক আন্দোলনকারী জানান, গত এক মাস ধরে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং যন্তরমন্তরে আন্দোলন চলা পর্যন্ত প্রতিবাদে অংশ নেবেন। তাঁর বক্তব্য, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পূর্ণ দায় নিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে। ফলে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে সংসদের অচলাবস্থা এবং রাজপথের আন্দোলন— দুই-ই আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।