পুলিশের কাছে অনুমতির আবেদন, নিরাপত্তায় প্রস্তুতি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কলকাতায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত মিছিল ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কলেজ স্কোয়ার থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত মিছিলের জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছেন সংগঠনের এক সদস্য। পুলিশ সূত্রের খবর, সেই আবেদন ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজেকে সিজেপির সদস্য পরিচয় দিয়ে দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় ১৯ এবং ২১ জুলাই কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর) এবং যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ)-এর কাছে ই-মেল পাঠান। সেখানে তিনি জানান, প্রায় দেড় হাজার মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে। মিছিল কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে রানি রাসমণি রোডে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা।
দেদীপ্য বলেন, এখনও পর্যন্ত পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি মেলেনি। অনুমতি না পেলে কর্মসূচি হবে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে।
সংগঠনের দাবি, কলকাতার বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং যুবসমাজকে এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষা-সংক্রান্ত বা অন্য কোনও দুর্নীতির অভিযোগে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের এই কর্মসূচি থেকে দূরে থাকার আবেদনও জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
শুধু কলকাতাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে মুম্বই ও চেন্নাইয়েও সিজেপির সমর্থনে বিক্ষোভের খবর মিলেছে। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক, চৈত্যভূমি, চেম্বুর এবং শিবসেনা ভবনের সামনে জমায়েত হলেও, মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, সেই কর্মসূচির জন্য কোনও পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। চেন্নাইয়ের টি নগর এলাকাতেও বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অংশগ্রহণে অনুরূপ সমাবেশ হয়েছে বলে দাবি।
সিজেপির এই দেশজোড়া আন্দোলনের সূত্রপাত নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ ঘিরে। দিল্লিতে সংগঠনের ‘চলো পার্লামেন্ট’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। তারই জেরে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢরা, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে প্রতিবাদে শামিল হন। রাহুলকে পুলিশ আটক করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ দিকে, সংসদের বাদল অধিবেশনেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থা অব্যাহত। অন্য দিকে, সিজেপির বিক্ষোভে পুলিশি ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া একটি আবেদন জরুরি ভিত্তিতে শুনতে অস্বীকার করেছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সময়ে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস মিললে তিনি তাঁর অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।