অন্নপূর্ণা যোজনার স্টেটাস Under Inquiry হলে কি আদৌ টাকা পাবেন?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অনেকেরই অন্নপূর্ণা যোজনার অ্যাপ্লিকেশন স্টেটাস বর্তমানে ‘আন্ডার ইনকোয়ারি’ (Under Enquiry) হয়ে রয়েছে এবং তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এখনও ৩ হাজার টাকা ঢোকেনি। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই উপভোক্তাদের মনে তীব্র দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে-আদৌ কি টাকা ঢুকবে, নাকি আবেদন বাতিল হয়ে যাবে?
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটাতে আসরে নামল রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। দলের স্পষ্ট বার্তা, এই টাকা নিয়ে চিন্তার কোনও কারণ নেই, সমস্ত যোগ্য উপভোক্তা সময়মতো তাঁদের প্রাপ্য টাকা পেয়ে যাবেন।
সংকট সমাধানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ এবং মহিলাদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভের বিষয়টি ইতিমধ্যেই গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ মহলের নজরে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দলের অন্দরে শুরু হয়েছে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অস্থায়ী বাসভবনে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদার-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতি ও সংশয় তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত দূর করতে হবে। এক্ষেত্রে দলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের ময়দানে নেমে বিশেষ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা সভাপতিদেরও পুরো প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে।
আন্ডার ইনকোয়ারি’ থাকলে কি টাকা মিলবে?
বৈঠক সূত্রে খবর, যেসব আবেদনপত্রের স্ট্যাটাস বর্তমানে ‘আন্ডার ইনকোয়ারি’ রয়েছে, সেগুলির কাজ এখনও চলছে। মূলত কিছু পদ্ধতিগত জটিলতা বা নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ বাকি থাকার জন্যই এই বিলম্ব। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনে আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নথি যাচাই করছেন। গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে কিছুটা সময় লাগলেও, শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে-কোনওভাবেই কোনও যোগ্য মহিলাকে এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
যাঁদের নথিতে কোনও ভুলত্রুটি নেই এবং যাঁরা এই প্রকল্পের জন্য প্রকৃতপক্ষেই যোগ্য, যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধীরে ধীরে ৩ হাজার টাকা পৌঁছে যাবে। তবে যতদিন না হাতে টাকা আসছে, ততদিন মহিলাদের মনে থাকা এই সংশয় পুরোপুরি দূর করা প্রশাসনের কাছেও এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।