অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ‘গুন্ডা দমন’ আইনের আওতায় পদক্ষেপ করা হবে, বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিধানসভার অন্দরে সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। শুক্রবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানালেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ আগেই পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই ছয়জন লিখিত এফআইআর দায়ের করেছেন। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং পাঁচজন অভিযুক্তের নামও প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ‘গুন্ডা দমন’ আইনের আওতায় পদক্ষেপ করা হবে।
বিরোধীদের তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বামফ্রন্টের ছাত্র সংগঠন সাধারণ ছাত্র সংগঠনের মতো আচরণ করেনি। তাঁর দাবি, বামেদের মিছিল প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাজার ও পার্ক সার্কাস-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা কিছু দুষ্কৃতী ডোরিনা ক্রসিংয়ে এসে ইট ও বোতল ছুড়তে শুরু করে। সেই হামলার শিকার হন কর্তব্যরত সাংবাদিকরাও। এতে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হন বলে জানান তিনি।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য শিবির ‘সেবাশ্রয়’ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের গুদাম থেকে এক্স-রে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এমআরআই যন্ত্র উদ্ধারের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ রোগীদের খাওয়ানো হয়েছিল। এক চিকিৎসক এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ভুয়ো চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অনিয়মের প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিধানসভা চত্বরে আম্বেদকর মূর্তির সামনে সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “ডিম ছোড়া যদি বাংলার সংস্কৃতি না হয়, তবে সাংবাদিকদের দিকে বোতল ছোড়াটাও কখনই বাংলার সংস্কৃতি হতে পারে না।”