প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর ছবি, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে FIR

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা আপত্তিকর এবং জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি কুরুচিকরভাবে প্রকাশের অভিযোগ অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে। রবিবার বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা করা হল। অভিযোগ দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রবাদী কর্মী মৌ মান্না এবং আরও দুই রাষ্ট্রবাদী মহিলা কর্মী। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি যেভাবে প্রকাশ করা হয়েছে, তা আপত্তিকর এবং জনমানসে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই তাঁরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বারুইপুর থানার দ্বারস্থ হন।

এই অভিযোগ দায়ের করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন রাষ্ট্রবাদী কর্মী সুশোভন রায়। অন্যদিকে আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাহানির ঘটনা ঘটেছে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি শ্রীলেখার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এই আবহেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন শ্রীলেখা। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘ছবিটা দেখলেই বোঝা যাবে বিষয়টা কী ছিল। আমি যতই বিজেপি-বিরোধী বা মোদী-বিরোধী হই না কেন, আমাকে দেশদ্রোহী বলা যেমন হাস্যকর, তেমনই কেউ যদি মনে করেন আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ধরনের কোনও ইঙ্গিত করেছি, সেটাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’’

অভিনেত্রীর দাবি, আন্দোলনের সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং লাঠিচার্জের মধ্যে পোস্টারের নির্দিষ্ট অংশ তাঁর নজরেই পড়েনি। সেই প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘কোনও মহিলা কোনও পুরুষের দিকে তাকালে তাঁর নিম্নাঙ্গের দিকে তাকান না।’’

সম্ভাব্য গ্রেফতারির জল্পনা নিয়েও কটাক্ষ করেন শ্রীলেখা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘শুনছি আমাকে দ্রুত গ্রেফতার করার দাবি উঠছে। যদি মনে হয় গ্রেফতার করবেন, করুন। যদি মনে হয় ফাঁসিতে চড়াবেন, তাও করুন। তবে আমি নিশ্চিত, আবার একটা আন্দোলন হবে। আপনারা তৈরি তো? আমি তৈরি।’’ অভিনেত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে আরও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।