প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদী ভাঙনের চিরস্থায়ী আতঙ্ক কাটাতে এবার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রামীণ মহিলাদের।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগে গঙ্গাসাগরের সাউ ঘেরী নদীর চরে ম্যানগ্রোভ রোপণ ও বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস পালিত হল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীভাঙনের চিরস্থায়ী আতঙ্ক কাটাতে এবার এক অনন্য ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিলেন গঙ্গাসাগরের সাউ ঘেরী এলাকার গ্রামীণ মহিলারা। তীব্র বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় নদী বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিপদ থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ম্যানগ্রোভ রোপণকে। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উপলক্ষে স্থানীয় ‘সবুজ সংঘ’-এর উদ্যোগে সাউ ঘেরী নদীর চরে ম্যানগ্রোভ লাগানোর এক বিশেষ কর্মসূচি গৃহিত হয়। যেখানে বর্ষার দিনে সাধারণ মানুষের মনে কেবলই ভয়ের ছবি ভেসে ওঠে, সেখানে এদিন বহু মহিলা একত্রিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোমর বেঁধে গাছ লাগানোর কাজে নেমে পড়েন। এই অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা শুধু নিজেদের বসতি ও বাঁধ সুরক্ষাই নিশ্চিত করছেন না, পাশাপাশি গোটা অঞ্চলে পরিবেশ সচেতনতার জোরালো বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। শুধুমাত্র গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি গ্রামবাসীরা। ‘সবুজ সংঘ’-এর উদ্যোগে, ধবলাট লক্ষণ পরবেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং গ্রামবাসী মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিনটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়। সুন্দরবনের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস রোধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব বোঝাতে এদিন দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য রেলি বের করা হয়।রেলিটি এলাকার বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। ছাত্রছাত্রীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও সচেতনতামূলক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। মিছিলে কচিকাচাদের পাশাপাশি এলাকার মহিলাদের বিপুল উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। শেষে বিদ্যালয় চত্বরে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা সুন্দরবনের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের অপরিসীম ভূমিকা তুলে ধরেন। এরপর কেক কেটে আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন করা হয়। ‘সবুজ সংঘ’-এর এই জনমুখী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একবাক্যে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। সুন্দরবনের মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়েছে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস। এর মধ্যে রয়েছে সাগর ব্লকনামখানা ব্লক পাথরপ্রতিমা ব্লক এবং মথুরাপুর ২ ব্লকেএদিনের প্রতিটি কর্মসূচির কেন্দ্রে ছিলেন এলাকার মহিলারা। সুন্দরবনের নদীবাঁধ রক্ষায় তাঁদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং ম্যানগ্রোভ লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার বিষয়টি উপকূলবর্তী এই অঞ্চলে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।