প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিক্ষোভে উত্তপ্ত সংসদ

রাজনৈতিক তরজা চরমে পৌঁছল বিজেপি ও বিরোধী সাংসদদের মধ্যে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে কার্যত রাজনৈতিক তরজা চরমে পৌঁছল। কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী শিবির— উভয় পক্ষই বিভিন্ন রাজ্যের প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে সামনে রেখে একে অপরের বিরুদ্ধে সরব হয়। একই সঙ্গে লোকসভায় সরকারি পরীক্ষায় দুর্নীতি রুখতে আনা ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দলের সাংসদদের নিয়ে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, গত এক দশকে বিজেপি শাসিত সময়ে দেশে ২০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলির জন্য কেন্দ্রের জবাবদিহি দাবি করেন তাঁরা। প্রশ্নফাঁসের জেরে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ সপা নেতৃত্বের।

একই দিনে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের সাংসদেরাও মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপিএসসি)-এর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে সংসদ চত্বরে প্রতিবাদে সামিল হন। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপিও। পঞ্জাবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজ্যোৎ সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সাংসদেরা। রাজ্যসভার সাংসদ স্বাতী মালিওয়ালের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান তোলেন, ‘‘পঞ্জাবের প্রশ্নফাঁসের জবাব দাও।’’

সোমবার পঞ্জাবে প্রশ্নফাঁস এবং বরনালায় সাফাইকর্মীদের আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদেরা। তাঁদের দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের পদত্যাগ। কংগ্রেসের অভিযোগ, আম আদমি পার্টি সরকারের আমলে অন্তত চার বার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পঞ্জাব সরকার।

এ দিকে, সরকারি নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অসাধু উপায়ে কারচুপি রুখতে সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ পেশ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সংসদে বিলটি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকেই এখন নজর দেশের পরীক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক মহলের।