কেন্দ্রকে সমর্থন তবুও আক্রমণ অভিষেকের !

প্রশ্নফাঁস বিলে সমর্থন, তবু কেন্দ্রকে তোপ অভিষেকের— ‘শিরোনামে নয়, ফলাফলে বিচার হোক।’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের আনা ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-কে নীতিগত সমর্থন জানালেও মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার লোকসভায় বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সরকারকে শিরোনাম বা প্রচারের ভিত্তিতে নয়, কাজের ফলাফল দিয়ে বিচার করতে হবে।

অভিষেকের বক্তব্য, প্রতি বছরই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে প্রতি বছরই সামনে আসে নতুন প্রশ্নফাঁসের ঘটনা। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘পরীক্ষার নাম বদলায়, ক্ষতিগ্রস্ত পড়ুয়াদের নাম বদলায়, অভিযুক্তদের নামও বদলায়। কিন্তু অপরাধ এবং সরকারের ব্যর্থতা একই থেকে যায়।’’

এর পরেই কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, সরকার দাবি করে তারা স্যাটেলাইট নজরদারি করতে পারে, ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে, সাইবার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু গোপন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কী ভাবে সরকারের নজর এড়িয়ে বাইরে পৌঁছে যায়, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়। ‘‘এটাই বর্তমান ব্যবস্থার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে,’’ মন্তব্য অভিষেকের।

রি-নিট পরীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, প্রশ্নফাঁসের পর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পৌঁছে দিতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করতে হয়েছে। অথচ দেশের তরুণ প্রজন্মের দাবি এত জটিল নয়— তারা শুধু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা চায়।

প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কেন্দ্রের আচরণ নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পড়ুয়াদের বক্তব্য শোনার পরিবর্তে সরকার তাঁদের সামনে ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ এবং পেলেট গানের মতো কঠোর পদক্ষেপ তুলে ধরেছে। তাঁর কথায়, ‘‘ছাত্ররা প্রতিযোগিতাকে ভয় পায় না, তারা ভয় পায় দুর্নীতিকে। মেধাকে নয়, ভয় পায় কারচুপিকে। পরীক্ষাকে নয়, তারা ভয় পায় গোটা ব্যবস্থাকে।’’ এই অবিশ্বাস গণতন্ত্রের পক্ষেও বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেন তৃণমূল সাংসদ।

অন্য দিকে, বিলের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ দাবি করেন, সংশোধিত আইন প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার এবং আরও কঠোর শাস্তির পথ খুলে দেবে। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস যেন শুধুমাত্র ২০১৪ সালের পর শুরু হয়েছে— এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস যেখানে নীতিগত শূন্যতা তৈরি করেছিল, সেখানে নরেন্দ্র মোদী সরকার তার কার্যকর সমাধান নিয়ে এসেছে। বিরোধীদের অভিযোগকে তিনি ‘নির্বাচিত ক্ষোভ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সুবিধাবাদের বদলে সমস্যার স্থায়ী সমাধানেই জোর দিয়েছে কেন্দ্র।

বিল নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের এই তীব্র বাক্‌যুদ্ধের মধ্যেই সংসদে প্রশ্নফাঁস রোধে নতুন আইনি কাঠামো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে নজর এখন দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও শিক্ষামহলের।