এক সাফাই কর্মীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : এই সাফাই কর্মীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে ঐ সাফাই কর্মী দীপাঞ্জন ঘটক একসাথে বেশ কয়েকটি ঘুমের ওষুধ খেয়ে নেন। ক্যানিংয়ের তালদি গ্রামের বাসিন্দা ঐ সাফাই কর্মীকে রাতেই পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। এই ঘটনার পর সোমবার দুপুরে দীপাঞ্জনের মা রানু ঘটক ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের ডেপুটি সুপার বসুমিতা আঢ্যের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ডেপুটি সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যে তিনি এই সাফাই কর্মীকে দিয়ে দিনের পর দিন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় জখম হয়ে আগতদের সেলাই, ড্রেসিং যেমন করিয়ে চলেছেন, তেমনি ব্লাড স্যাম্পেল কালেকশনও করাতেন। পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত নানা কাজও করাতেন। কোনও কিছুর প্রতিবাদ করতে গেলেই নানা ভাবে হুমকি দিতেন তিনি। এমনকি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নানা ধরনের দুর্নীতির সাথে এই ডেপুটি সুপার জড়িত বলে দাবি দীপাঞ্জনের পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ সেই দুর্নীতির কথা জানতে পারার কারণে এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করার কারণেই বিগত মাস দুয়েক ধরে দীপাঞ্জনকে নানা ভাবে মানসিক অত্যাচার করছেন বসুমিতা। এমনকি কাজ ছাড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও বারে বারে দিয়েছেন এই চুক্তি ভিত্তিক সাফাই কর্মীকে।

দীপাঞ্জনের পরিবারের আরও অভিযোগ, তাঁর মা অসুস্থ। সংসারের সিংহভাগ খরচের জন্য নির্ভর করতে হয় তাঁর রোজগারের উপরেই। কাজ চলে গেলে সমস্যায় পড়তে হবে। মায়ের অসুস্থতার কথাও ডেপুটি সুপারকে জানিয়েছিলেন দীপাঞ্জন। সহানুভুতি তো দূর, উল্টে দীপাঞ্জনকে আত্মহত্যা করতে বলেছিলেন বলেও অভিযোগ। সেই ঘটনার পর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই সাফাই কর্মী। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতেই ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।
যদিও এ বিষয়ে কোন উত্তর মেলেনি বসুমিতার কাছে। হাসপাতালে গেলে তিনি দেখা করতে রাজি হননি। এমনকি ফোন ধরেননি, এসএমএসের উত্তরও দেননি। হাসপাতাল সুপার অপূর্বলাল সরকারও এ বিষয়ে কিছুই বলতে চাননি।