‘এটি রাগ নয়, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কণ্ঠস্বর’

নিট আন্দোলন নিয়ে লোকসভায় কেন্দ্রকে আক্রমণ রাহুলের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফের সরব হল কংগ্রেস। বুধবার লোকসভায় পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেন, রাস্তায় নেমে ছাত্রছাত্রীরা যে প্রতিবাদ করেছে, তা কোনও ভাবেই হিংসা বা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়। বরং তা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উদ্বেগ, আশা এবং ন্যায্য অধিকারের দাবির প্রতিফলন।

লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেভাবে রাস্তায় নেমেছিল, তা দেখে আমি আশ্বস্ত হয়েছি। এটি রাগ নয়, হিংসা নয়, ঘৃণাও নয়। এটি ভারতের যুবসমাজের গভীর অনুভূতির প্রকাশ। আমার বিশ্বাস, বিজেপি-সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই এই বার্তাকে সম্মান জানানো উচিত।”

কংগ্রেস নেতার দাবি, ছাত্র আন্দোলনের বিষয়টি কোনও রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশের প্রতিটি পরিবারই এই উদ্বেগ অনুভব করছে। বিজেপি সাংসদদের উদ্দেশে রাহুল বলেন, “আপনারা যদি নিজেদের সন্তানদের জিজ্ঞেস করেন, তারা এই আন্দোলন সম্পর্কে কী ভাবছে, তা হলে দেখবেন তারাও আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অনুভূতির সঙ্গে একমত। যা ঘটেছে, তাতে লজ্জার কিছু নেই। বরং প্রত্যেক ভারতীয়ের গর্বিত হওয়া উচিত।”

নিট-প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, দোষীদের শাস্তি এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। সেই আবহেই সংসদে এই মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা।

এ দিন কংগ্রেসের সাংসদ কে সি বেনুগোপালও দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নয়। দলের মূল লক্ষ্য ছাত্রছাত্রী এবং তাদের পরিবারের সমস্যাকে সামনে আনা।

অন্য দিকে, একই দিনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও কেন্দ্রের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে খুব শীঘ্রই ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নিট-প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে সংসদ থেকে রাজপথ— সর্বত্রই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।