ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মনু সিং, রাজ সিং, গোলু সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিং।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: চন্দ্রনাথ রথের কথা মনে আছে? বেশিদিন আগের কথা নয় কিন্তু। গত মে মাসে ভোট মেটার পরেই খুন হন চন্দ্রনাথ রথ। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর এক সময়ের আপ্ত সহায়ক। সেই খুনের আজও কিনারা হয়নি। তবে সম্প্রতি আরও দুজন গ্রেফতার হয়েছে। সম্পর্কে তারা দুই ভাই। খুনের পিছনের যাবতীয় পরিকল্পনাতে ছিল দুই ভাইয়ের হাত। রাজনৈতিক কোনও কারণ নাকি অন্য কিছু? ঠিক কী কারণে প্রাণ দিতে হয়েছিল চন্দ্রনাথকে ? এই দুই ধৃতই কি ছিল আসল শুটার? নাকি মিডলম্যান ? কেন রোষ গিয়ে পড়ল চন্দ্রনাথের উপর? কী সম্পর্ক ছিল চন্দ্রনাথ ও ধৃতের মধ্যে ? কতদিন তারা একসঙ্গে কাজ করেছে? কবে থেকে চন্দ্রনাথকে শেষ করার প্ল্যান কষা হচ্ছিল ? কেন বারবার ভেস্তে গিয়েছিল পরিকল্পনা ? কে মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ?
৬ মে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের কাছে যশোর রোডে ভয়াবহ হত্যা। গাড়িতে যাওয়ার সময় মোটরবাইক আরোহী দুষ্কৃতীদের গুলিতে প্রাণ হারান চন্দ্রনাথ রথ। গাড়ি করে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া দিয়ে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। ড্রাইভারের পাশের আসনেই বসেছিলেন তিনি। তখনই একটি গাড়ি এসে তাঁর পথ আটকায়। এরপর বাইক আরোহী দুষ্কৃতী পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পর পর গুলি করে চন্দ্রনাথকে। গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর গাড়ির চালক। গুরুতর জখম অবস্থায় দুজনকে স্থানীয় ভিভা সিটি হাসপাতাল নিয়ে এলে, চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় কয়েকজনকে জনকে গ্রেফতারও করেছে সিবিআই। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে আরও বড় কোনও অপরাধচক্র কাজ করেছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর সেনায় কাজের পর স্বেচ্ছাবসর নিয়ে যোগ দেন কর্পোরেট সংস্থায়। ধীরে ধীরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে আসেন চন্দ্রনাথ রথ। ২০২১ সালে আপ্তসহায়ক করেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবেও কাজ করতেন চন্দ্রনাথ রথ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কলকাতার ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী প্রচারে রথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। নির্বাচনের ফল ঘোষণার দুদিন পরেই চন্দ্রনাথের জীবনে পড়ে ইতি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছ থেকে খুনের তদন্তভার যায় সিবিআই-য়ের হাতে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয় শ্যুটারকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে মনু সিং, রাজ সিং, গোলু সিং, মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিং। এছাড়াও খুনের বরাত নেওয়া তিন মধ্যস্থতাকারী বিনয় রাই, সঞ্জয় রাই এবং বিকাশ মিশ্রকেও গ্রেফতার করা হয়। গঠন করা হয় দিল্লির স্পেশাল ক্রাইম শাখার এক ডিআইজির-এর নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট।
শুভেন্দু অধিকারীর পিএ চন্দ্রনাথ খুনে নয়া মোড়। আরও ২ জনকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার ২ ভাই সাগর ও সাহেব সোনকার। ধৃত সাগর সোনকার চন্দ্রনাথ রথের পূর্ব পরিচিত। একসময় তারা একসঙ্গে কাজ করতেন। ২০২০ সাল পর্যন্ত সাগর এক বিশেষ দলের বিধায়কের সঙ্গে কাজ করে। পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করে। বিজেপিতে যোগদানের পর চন্দ্রনাথের সঙ্গে কাজ করে। কিন্তু সেই সময়ও একভাবেই যোগাযোগ থাকে বিরোধী দলের সঙ্গে। চন্দ্রনাথকাণ্ডে তদন্তে নেমে উঠে আসে এই তথ্য। যেখানে দেখা যায়, ওই সময় একভাবে আগের মতো বিরোধী দলের সঙ্গে ল্যান্ডলাইনে যোগাযোগ থাকে সাগরের। ওই দলের স্থানীয় কার্যালয়ের সঙ্গে রীতিমতো ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ চালিয়ে গেছে সাগর সোনকার।
চন্দ্রনাথ রথকে খুনের পরিকল্পনা ২০২৬-এ নয়, এই পরিকল্পনা চলছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকেই। নানা কারণে সেই পরিকল্পনা বারবার পিছিয়ে যায়। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একাধিক বার পিছিয়ে আসতে হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সাগরই শ্যুটারদের কাছে খুনের বরাত এবং টাকা পৌঁছে দিয়েছিল। শুক্রবার অভিযুক্তদের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন-সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করে কেন্দ্রীয় সংস্থার গোয়েন্দারা। সিবিআই সূত্রের আরও দাবি, সাগরের ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারে, সাগরের সঙ্গে ভাড়াটে শুটারের যোগাযোগ ছিল। শুটারের টাকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও সাগর নিয়েছিল। সিবিআইয়ের এক কর্তা জানান, শুটার আনা থেকে যাবতীয় তথ্য সরবরাহ, রেকি করতে সাহায্য, এই খুনের পেছনের যাবতীয় পরিকল্পনাতে ছিলেন এই দুই ভাই।
সাগর নিয়মিত একটি ল্যান্ডলাইনের মাধ্যমে কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। সেই সূত্র ধরেই গোটা ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চলছে তদন্ত। কিন্তু কী কারণে সাগর চন্দ্রনাথকে খুন করতে চাইবে ..,কী লাভ আছে সাগরের। তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তে আরও কী উঠে আসবে, নজর থাকবে সেই দিকেই।