জঙ্গি হামিমের সহযোগি এক কলেজ পড়ুয়া। যার নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এতো একে একে ঝুলি থেকে বিড়াল বেরিয়ে আসছে। জঙ্গি হামিমের সহযোগি এক কলেজ পড়ুয়া। যার নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ। হাওড়ার এই কলেজ ছাত্র কি করে জঙ্গি হামিমের খবরিলাল হয়ে উঠল। কিসের লোভে হামিমের সঙ্গে এই পথ বেছে নিল সে। পরিবার থেকে প্রতিবেশীরা সবাই যেন আকাশ থেকে পড়ছেন, তাঁদের রাজের কিনা জঙ্গির সঙ্গে ওঠাবসা।
হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডে এসটিএফের অভিযান ঘিরে থম থমে গোটা এলাকা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত আদিত্যর সঙ্গে পূর্বে গ্রেফতার হওয়া হামিমের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে। সেই সূত্র ধরেই গ্রেফতার কলেজ পড়ুয়া আদিত্য ওরফে রাজ। আদিত্যর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন-সহ একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কলেজে পড়তে পড়তে কিভাবে জঙ্গি হামিমের খবরি হয়ে উঠেছি আদিত্য। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, হামিমের কাছে বিভিন্ন নথি, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পৌঁছে দেওয়ার কাজে আদিত্যর ভূমিকা থাকতে পারে। তদন্তকারীদের হাতে তথ্য এসেছে, মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ওপর নজর রাখার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আদিত্য সিং ওরফে রাজুকে। তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখত আদিত্য। উমেশ রাই, এমনকি তাঁর ছেলের গাড়ি-বাড়ির ছবি-ভিডিয়ো আদিত্য হামিমকে দিয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। গত ৩৫-৪০ বছর বেলিয়াস রোডে ওই ফ্ল্যাটে আছে আদিত্যরা। আচার, ব্যবহারে কোনওদিন খারাপ কিছু দেখেনি প্রতিবেশীরা। এমনকি আদিত্যর বাবা-মাও বিশ্বাস করতে পারছেন না ছেলের কর্মকাণ্ড। অর্পিতা যেভাবে জঙ্গি কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েছিল সেভাবেই কি আদিত্যও হামিমের ফাঁদে পড়ে। জানা যাচ্ছে, হানিট্র্যাপের জন্য বাংলায় মহিলা গ্যাং তৈরির ছক করেছিল হামিম ও তাঁর দলবল। সুন্দরী ও উঠতি মডেলদেরই সোশাল মিডিয়ায় তাঁরা টার্গেট করছিল বলে সূত্রের খবর, রাজ্যে অন্তত ৬ জন মন্ত্রী ও তাঁদের পরিবারের লোকেদের হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর ছক কষা হয়। এই ব্যাপারে অর্পিতা ছাড়াও অন্য মহিলাদের কাজে লাগানো হত কি না সেই তথ্য গোয়েন্দারা জানার চেষ্টা করছেন। মডেলিং আর অভিনয়ের টোপ দিয়েই ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকারকে দলে টেনেছিল হামিম মণ্ডল। হানিট্র্যাপের কাজ করলে অর্পিতা অনেক বেশি টাকা রোজগার করতে পারবে বলে তাঁকে বোঝায় হামিম। সেরকমই কি আদিত্যকেও অল্প সময়ে বেশি রোজগারের আশা দিয়ে এই কার্যকলাপে লিপ্ত করেছিল। একটি অনলাইন গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে হামিমের সঙ্গে আলাপ হয় আদিত্যর। তারপর বন্ধুত্ব ও মগজধোলাই। আর সেই সূত্র ধরেই রাজ্য রাজনীতির হেভিওয়েটদের উপর নজরদারির ছক। আদিত্যর পরিবারের অভিযোগ চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে তাকে।
হাওড়ার পিলখানা রোড এলাকায় হামিমের একটি দোকানের সন্ধান পেয়েছে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অনুমান, এলাকায় স্থায়ী যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং সন্দেহ এড়াতেই ওই দোকান ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। একইসঙ্গে রাজ্যের পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার পরিকল্পনার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই হাওড়াকে সম্ভাব্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের অন্যতম বিষয়। আর জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধি করতে আদিত্যকে কীভাবে ব্যবহার করত হামিম তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। আদিত্যর সূত্র ধরে তার বন্ধু,বান্ধব ও পরিচিত কেউ যুক্ত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।