জুুকারবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনায় খুশি কঙ্গনা,

‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।’

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিয়ো সাময়িক ভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেটা-র সিইও মার্ক জ়ুকারবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনাকে স্বাগত জানালেন বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, মেটা-র ভুল স্বীকার করাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছি। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরে তাঁর আশা, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না।

কঙ্গনার কথায়, ‘‘ভুল স্বীকার করা হয়েছে, এতে আমরা খুবই খুশি। আশা করি ভবিষ্যতে আমরা স্বস্তি পাব। কারণ, জঙ্গি শক্তির ক্রমবর্ধমান হুমকি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।’’

মোদীর ভিডিয়ো সাময়িক ভাবে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই বুধবার মেটা-র বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ সামনে আসে। সূত্রের খবর, শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি বিষয়বস্তু (CSAM), ডিপফেক এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় একাধিক ত্রুটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জ়ুকারবার্গ ক্ষমা চেয়েছেন। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতন সংক্রান্ত বেআইনি বিষয়বস্তুর বিজ্ঞাপন নিয়ে মেটার বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে। অভিযোগ, ওই ধরনের বেআইনি বিষয়বস্তু নির্দিষ্ট দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থের বিনিময়ে প্রচার চালানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে মেটাকে ফের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

এরই মধ্যে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলন নিয়েও মুখ খুলেছেন কঙ্গনা। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে সরব হওয়া লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কেন ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে যাচ্ছেন না?

কঙ্গনার অভিযোগ, ‘‘আমাদের জেন জ়ি, আমাদের সন্তানরা নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বহু দশক ধরে চলে আসছে। দিল্লিতে কংগ্রেস এ নিয়ে নাটক করেছে। এমনকি সংসদে হামলা চালানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল। অথচ ঝাড়খণ্ডে যখন পড়ুয়াদের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ, তখন রাহুল গান্ধী সেখানে যাচ্ছেন না।’’

রাহুলকে আক্রমণ করে কঙ্গনা আরও বলেন, ‘‘মানুষকে উস্কে দেওয়া কিংবা দেশের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করার প্রসঙ্গ এলেই রাহুল গান্ধী সবার আগে এগিয়ে আসেন।’’

ঝাড়খণ্ডে JPSC, JSSC-সহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেশ কিছু দিন ধরেই আন্দোলন করছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাগুলি বাতিল করে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি মন্ত্রীপরিষদীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।