এখনই ভোটের ময়দানে নয়, ‘চাপসৃষ্টি গোষ্ঠী’ হিসাবেই থাকবে ককরোচ জনতা পার্টি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : এখনই রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে হাঁটছে না ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। বরং জনমতকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করাই আপাতত তাদের লক্ষ্য। বুধবার ছত্রপতি সম্ভাজীনগরে সংগঠনের দু’দিনের কোর কমিটির বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা জানালেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন কোনও রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি প্রয়োজন একটি শক্তিশালী জনআন্দোলনের।
দীপকের কথায়, ‘‘এই মুহূর্তে CJP একটি চাপসৃষ্টি গোষ্ঠী হিসাবেই থাকবে। কারণ, এখন ভারতের প্রয়োজনই হল এমন একটি চাপসৃষ্টি গোষ্ঠী।’’
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবাদ থেকে CJP-র উত্থান হলেও সংগঠনের প্রতি সমর্থন এখন কেবল পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই বলেই দাবি দীপকের। তাঁর মতে, প্রশাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমশ কমছে। সেই আস্থা ফেরাতে জনমত এবং জনচাপই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার।
রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম থেকে নির্বাচন কমিশন—একাধিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। দীপকের বক্তব্য, ‘‘রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্বাচন কমিশন—সব প্রতিষ্ঠান নিয়েই মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহি ফেরাতে জনআন্দোলন ও জনচাপ প্রয়োজন। আমার মতে, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এখন অত্যন্ত খারাপ অবস্থায়।’’
CJP শীঘ্রই নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারে—এমন জল্পনাও উড়িয়ে দিয়েছেন দীপকে। তাঁর দাবি, আপাতত রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের কোনও পরিকল্পনা নেই। প্রচলিত রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের হতাশা বাড়ছে বলেই তাঁর মত। সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে লড়াইয়ের বদলে দেশ জুড়ে নাগরিক আন্দোলন গড়ে তুলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশেও থাকার বার্তা দিয়েছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে আমরা দৃঢ় ভাবে রয়েছি। পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে সংগঠনের নেতৃত্ব-সহ প্রতিনিধিরা সেখানে যেতে পারেন।’’
ছত্রপতি সম্ভাজীনগরের বৈঠকে CJP-র ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠনের তৃণমূল স্তরের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক বাড়ানো এবং দেশ জুড়ে যুব সমাজের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিকে সামনে রেখে দেশব্যাপী যুব কর্মসূচির প্রস্তুতিও চলছে।
তবে নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের বদলে জনচাপ তৈরির পথেই আপাতত থাকতে চায় CJP।