হিমাচলে বৃষ্টির দাপট, খাদে বাস!

চাম্বায় মৃত ৭, আহত ১১, বিপর্যস্ত ১৮৫ রাস্তা

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক: বর্ষার বৃষ্টি যেন থামার নামই করছে না। একের পর এক ধস, রাস্তা বন্ধ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহে বিপর্যয়ের মধ্যেই শনিবার সকালে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা ঘটল হিমাচল প্রদেশের চাম্বা জেলায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে একটি বেসরকারি বাস। দুর্ঘটনায় অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

সরকারি সূত্রে খবর, শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ বায়রাগড়ের পাটওয়ার সার্কেলের অন্তর্গত চালুঞ্জ মোড়ের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ‘শর্মা বাস’ নামে ওই বেসরকারি বাসটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), পুলিশ, হোমগার্ড, দমকল এবং রাজস্ব দফতরের কর্মীরা। শুরু হয় উদ্ধারকাজ।

আহত ১১ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ছ’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে চাম্বার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার মধ্যেই গোটা হিমাচল জুড়ে দুর্যোগের ছবি আরও ভয়াবহ। প্রবল বর্ষণ এবং ধসের জেরে শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রাজ্যের ১৮৫টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সংখ্যাটি ছিল ১৬২। সবচেয়ে বেশি রাস্তা বন্ধ মান্ডিতে—৯২টি। কুল্লুতে ৪৮টি, চাম্বায় ১৪টি এবং শিমলায় ১৪টি রাস্তা বন্ধ রয়েছে।

বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহেও। রাজ্য জুড়ে ১০৪টি বিদ্যুৎ বণ্টন ট্রান্সফর্মার অকেজো হয়ে পড়েছে। ৭৭টি জল সরবরাহ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত।

৩০ জুন থেকে ৭ অগস্ট পর্যন্ত সরকারি হিসাবে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে হিমাচলে ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৭৮ জনের। নিখোঁজ ১৫০ জন, আহত ২২৬। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়ি ও অন্যান্য পরিকাঠামো।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৩৪.৬৭ কোটি টাকা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ধসপ্রবণ এবং হড়পা বান-আক্রান্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন। উদ্ধার ও রাস্তা মেরামতির কাজও জোরকদমে চলছে।