ভারতের মুকুটে নয়া পালক!

শিবালিকের জীবাশ্ম সংগ্রহে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, প্রথম বার IUGS-এর সম্মান পেল ভারত।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : শিবালিক পর্বতমালার প্রাগৈতিহাসিক স্তন্যপায়ী প্রাণীদের জীবাশ্মের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ভারত। কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ সংস্থা (GSI)-র জীবাশ্ম সংগ্রহকে মর্যাদাপূর্ণ IUGS Geo-Collection হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে International Union of Geological Sciences (IUGS)। এই প্রথম ভারত এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল।

গত ২৬ জানুয়ারি কলম্বিয়ার বোগোতায় IUGS-এর ৮২তম কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভূ-বিজ্ঞানের গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভূতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহগুলিকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

GSI গ্যালারিতে থাকা শিবালিক জীবাশ্ম সংগ্রহটি দক্ষিণ এশিয়ার মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্মের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। মায়োসিন থেকে প্লাইস্টোসিন যুগ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় ১৮ লক্ষ থেকে ৫০ হাজার বছর আগের জীবাশ্ম রয়েছে এখানে। প্রাইমেট, মাংসাশী ও তৃণভোজী স্তন্যপায়ী থেকে শুরু করে ঘোড়া-জাতীয় প্রাণী, হাতি, গণ্ডার, জিরাফ-জাতীয় প্রাণী, গবাদি পশু এবং কুমির-জাতীয় প্রাণীর জীবাশ্মও রয়েছে এই সংগ্রহে।

ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার এবং সংলগ্ন অঞ্চলে বিস্তৃত শিবালিক গোষ্ঠীর বিভিন্ন জীবাশ্মসমৃদ্ধ এলাকা থেকে এই নমুনাগুলি সংগৃহীত হয়েছিল। উনবিংশ শতাব্দী এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে GSI-এর ভূতত্ত্ববিদ ও জীবাশ্মবিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় সংগ্রহটির বড় অংশ গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে বিবর্তন, স্তরবিন্যাস এবং প্রাচীন পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় এই সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

GSI-এর তরফে কলকাতা সদর দফতর থেকে IUGS Geo-Collections Programmegsi-এর অধীনে এই সংগ্রহের মনোনয়ন পাঠানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে সংগ্রহটির সংরক্ষণ, নথিভুক্তকরণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার হবে বলে আশা। একই সঙ্গে জীবাশ্মবিজ্ঞান নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সহযোগিতার নতুন পথও খুলবে।

১৮৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত GSI বর্তমানে খনিজ অনুসন্ধান, ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ভূকম্পন, হিমবাহবিদ্যা-সহ নানা ক্ষেত্রে গবেষণা ও সমীক্ষা চালায়। কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রকের অধীন এই সংস্থার সদর দফতর কলকাতায়।