টাটা গোষ্ঠীতে উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : টাটা গোষ্ঠীতে বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন এন চন্দ্রশেখরন। আগামী ১৮ অগস্ট সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভার আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে কর্পোরেট মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর বর্তমান মেয়াদ থাকলেও, মেয়াদ শেষের পর আর পুনর্নিয়োগ চাইবেন না বলে জানিয়েছেন চন্দ্রশেখরন। দ্রুত উত্তরসূরি বাছাই করে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য বোর্ডকে অনুরোধও করেছেন তিনি।
বিবৃতিতে চন্দ্রশেখরন লিখেছেন, টাটা গোষ্ঠীতে তাঁর পেশাজীবনের ৪০ বছর পূর্ণ হয়েছে। গত এক দশক টাটা সন্সের নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর কাছে ‘বড় সম্মান এবং গভীর দায়িত্ব’-এর বিষয়। তবে চেয়ারম্যান পদে পরবর্তী মেয়াদ নিয়ে বোর্ডে সর্বসম্মতি না হওয়াই তাঁর সরে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ বলে বিবৃতিতে ইঙ্গিত মিলেছে।
চন্দ্রশেখরনের পরবর্তী মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব টাটা ট্রাস্টের দুই প্রধান ট্রাস্ট—স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট এবং স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট—সমর্থন করেছিল। সেই প্রস্তাব ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি টাটা সন্সের বোর্ডে ওঠে। কিন্তু এক বোর্ড সদস্যের আপত্তির কারণে তা সর্বসম্মত ভাবে পাশ হয়নি। এর পরেই সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন চন্দ্রশেখরন।

এই ঘটনাকে ঘিরে টাটা সন্স ও টাটা ট্রাস্টের মধ্যে মতপার্থক্যের কথাও সামনে এসেছে। বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব, গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কৌশল এবং সংখ্যালঘু অংশীদার শাপুরজি পালনজি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানাপড়েন রয়েছে বলে খবর। টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটার সঙ্গে চন্দ্রশেখরনের মতপার্থক্য নিয়েও জল্পনা চলছে।
চন্দ্রশেখরনের পদত্যাগের খবরে শেয়ার বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। টিসিএস, টাটা স্টিল এবং টাটা পাওয়ারের মতো একাধিক সংস্থার শেয়ারে পতন দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ টিসিএস প্রায় ৩.৯ শতাংশ, টাটা স্টিল ১.৮৩ শতাংশ এবং টাটা পাওয়ার ১.২৬ শতাংশ পড়ে যায়।
১৯৮৭ সালে টাটা গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়া চন্দ্রশেখরন ২০০৯ সালে টিসিএসের সিইও হন। ২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তাঁর নেতৃত্বে টাটা গোষ্ঠী এয়ার ইন্ডিয়া অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, ইস্পাত, প্রতিরক্ষা, বিমান পরিষেবা ও সেমিকন্ডাক্টর-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্প্রসারণ করেছে। এবার তাঁর উত্তরসূরি কে হন, সে দিকেই নজর শিল্পমহলের।