বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল!

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে অনেকগুলি নাম বিবেচনায় থাকলেও দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্টপতি হতে চলেছেন বিএনপি’র প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বর্তমানে বিএনপি’র মহাসচিব। প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের এই প্রবীণ নেতাকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফখরুল বর্তমানে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন।

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে অনেকগুলি নাম বিবেচনায় থাকলেও দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পদে মহম্মদ সাহাবুদ্দিন পূর্ণ মেয়াদ থাকবেন না। তাঁকে মাঝপথে সরিয়ে দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। গত মাসে আচমকাই ইস্তফা দেন ২২ তম রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন। যিনি ছিলেন শেখ হাসিনার মনোনীত এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী।

১৯৯১ সালের পর বাংলাদেশে ফের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবারই জামায়েতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ জোটের তরফে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন মন্ত্রী তথা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। ‌তিনি বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তবে ফখরুলের জয় নিয়ে কোন সংশয় নেই। কারণ বাংলাদেশ সংসদে এখন বিএনপি’র দুইটি অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষিত বা তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা না হলেও স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর এবং বিহারে দীর্ঘদিন সামরিক প্রশিক্ষণ নেন। বছর কুড়ির তরুণ ফখরুল তখন বামপন্থী রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

১৭ বছর আগে তারেক রহমানের লন্ডনে চলে যাওয়া এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির সময় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ফখরুলের অবদান সব মহলেই স্বীকৃত। বাংলাদেশের তিনি একজন সজ্জন ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ হিসেবেও অত্যন্ত পরিচিত। শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফার শাসনামলের ১৫ বছরে ফখরুল সরকার বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। বিএনপিতে তিনি খালেদা জিয়ার অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

বিএনপি’র মহাসচিব হলেও বাংলাদেশের দল নির্বিশেষে সকলের কাছেই এই প্রবীণ নেতার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা আছে। সে দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যেও বিএনপির অন্য নেতাদের তুলনায় ফখরুলের গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বস্তুত তাঁর তৎপরতা এবং আহ্বানেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দুসহ সমস্ত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ বিএনপিকে সমর্থন করে। যারা বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় থেকে আওয়ামী লিগকে ভোট দিত।

একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র এই প্রবীর নেতা তথা ভাবি রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, অতীতের ভুল বোঝাবুঝি থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে তারা নতুন মাত্রা দিতে চান।