কেউ ওই টাকায় ওষুধ কিনতেন, কেউ আবার ছেলের টিউশন খরচাও দিতেন। অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হওয়ার পর থেকে সেই টাকা পাওয়ার পথ বন্ধ। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বহু গৃহলক্ষ্মীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দেড় হাজার বনাম তিনহাজার। কোনটা বেশি এটা বলতে নিশ্চয় গণিতবিদ হওয়ার প্রয়োজন নেই। বাংলায় পালাবদলের পর থেকেই দেড় হাজার বনাম তিনহাজারের দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে। লক্ষ্মীরভাণ্ডারের দেড় হাজার টাকার বদলে অন্নপূর্ণা যোজনার তিন হাজার টাকা নিয়ে বিতর্ক কমছে না। অনেকেই এখনও এই প্রকল্পের টাকা পাননি বলে অভিযোগ। তার উপর বিভিন্ন শর্ত আরোপ হচ্ছে এই জনপ্রিয় যোজনার উপর। এই শর্তের মধ্যে যারা পড়েন তাঁরাই পাবেন টাকা। কিন্তু এমন অনেকেই আছেন যারা এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্য তাঁরা অনলাইন, অফলাইন দুই ভাবেই অ্যাপ্লাই করেছেন তবুও টাকা পাননি। বিগত সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাওয়ায় অনেকের সংসার চালাতে সুবিধা হত। কেউ ওই টাকায় ওষুধ কিনতেন, কেউ আবার ছেলের টিউশন খরচাও দিতেন। অন্নপূর্ণা যোজনা শুরু হওয়ার পর থেকে সেই টাকা পাওয়ার পথ বন্ধ। ফলে সমস্যায় পড়েছেন বহু গৃহলক্ষ্মীরা।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল সব লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রাপকরাই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তার উল্টো। লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রাপকদের অধিকাংশই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। কেন এমন হল তা নিয়ে আলোচনা , সমালোচনা কম হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি,লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রকল্পে অনেক জালিয়াতি হয়েছে। মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায় এই সরকারি অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যয় করা উচিত। সরকারি অর্থে নয়ছয় করার কোনও অধিকার কোনও মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা আধিকারিকের নেই। তিনি আরও বলেন, লক্ষ্মীরভাণ্ডার প্রাপকদের লিস্টটাকে অন্নপূর্ণা যোজনাতে কনভার্ট করা হলে, তাতে এসআইআর এর নাম বাদ গেছে, ভারতীয় নয় এমন লোকের নাম থাকবে, মৃত লোকের নাম থাকবে, পুরুষদের নাম তাতে থেকে যাবে। সেই কারণে নতুন সরকার স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই কর্মসূচি দেওয়ার ক্ষেত্রে ফর্ম ও নতুন পোর্টাল চালু করেছে। ইতিমধ্যে অনেকেই ভেরিফাইড হয়েছেন। সংখ্যাটা গত মাসের থেকেও অনেক বেশি । তাদের অর্থ দফতর সতেরো তারিখ থেকে টাকা ট্রান্সফার করবে। এত বিরাট এলাকা, বিরাট টাকা দু তিন দিন লাগবে অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করতে। যোগ্য প্রাপকরা তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। টাকা ঢুকতে প্রতিমাসে আর দেরি হবে না। এই প্রকল্প একবার চালু হয়ে গেলে প্রতিমাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ঢুকবে টাকা। এমনটাই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনেকেই বলছেন এত ছানবিন করার পরেও যোগ্যরা টাকা পাচ্ছে না। তাই এই সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। একটা অভিযোগ পোর্টাল রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ওই অভিযোগ পোর্টালে পরবর্তী সময়ে যে কেউ অভিযোগ জানাতে পারবেন। এখন দেখার অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গৃহলক্ষীদের এইঅভাব অভিযোগ কবে মেটে।