৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে বহু, বাড়ছে মৃত্যুমিছিল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দুর্যোগের মুখোমুখি ইন্দোনেশিয়া। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশটি। বিশেষ করে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস অঞ্চল এবং এর আশেপাশের এলাকায় এই ভয়াবহ ভূকম্পন আঘাত হানে।
​প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী ধাক্কা: গত ১৫ আগস্ট (শনিবার) ভোরে স্থানীয় সময় ফ্লোরেস অঞ্চলের উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর গভীরতা ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে থাকায় এর ক্ষয়ক্ষতি ছিল মারাত্মক।
পরপর কম্পন ও আফটারশক: প্রথম ওই প্রধান ভূমিকম্পের পর গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একাধিকবার কেঁপে উঠেছে অঞ্চলটি। এমনকি ১৭ আগস্ট ভোরেও ফ্লোরেস অঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার আরেকটি মাঝারি থেকে শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যা মানুষের আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রাণহানি ও হতাহতের সংখ্যা: আকস্মিক এই ভূকম্পনে বহু ঘরবাড়ি, স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও উপাসনালয় ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক। উদ্ধারকাজ চলার কারণে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
​সুনামি সতর্কতা ও উদ্ধারকাজ: প্রথম দফার ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় স্বল্পমেয়াদী সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পরিস্থিতি বুঝে তুলে নেওয়া হয়। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ভূমিধসের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষজনের কাছে পৌঁছতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা দলগুলো দুর্গত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে এবং ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।