কনটেন্ট ব্লকের নির্দেশ, এগিয়ে ইনস্টাগ্রাম!

গড়ে প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি করে পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছে এই প্রযুক্তি সংস্থাগুলি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অনলাইনে অপপ্রচার, বিকৃত বিষয়বস্তু ও ডিপফেক রুখতে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির উপর নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সূত্রের খবর, গত মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে মেটা ও গুগল-সহ প্রধান প্ল্যাটফর্মগুলিকে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ব্লক নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে, গড়ে প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি করে পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছে এই প্রযুক্তি সংস্থাগুলি। প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ২৭৫টি। সর্বভারতীয় সংবাদমধ্যামের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে। কাকতালীয়ভাবে, এই পাঁচ মাসের সময়সীমার মধ্যেই দেশে প্রশ্নফাঁস ও ছাত্র আন্দোলনের মতো উত্তপ্ত ঘটনাগুলি ঘটেছে।

কাকে কত ব্লকিং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির পাঠানো ব্লকিং নির্দেশের সিংহভাগই গিয়েছে প্রযুক্তি সংস্থা মেটার কাছে। ১০টির মধ্যে গড়ে ৯টি নির্দেশই পেয়েছে তারা।

ইনস্টাগ্রামঃ ৫ মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক, অর্থাৎ প্রায় ১ লক্ষ ব্লক-নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।


ফেসবুকঃ মেটার এই প্ল্যাটফর্মটির কাছে গিয়েছে প্রায় ৮০ হাজার নির্দেশ।

ইউটিউবঃ গুগল মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মকে পাঠানো হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ব্লক নির্দেশ।

যদিও মাসভিত্তিক কোনও পরিসংখ্যান সেখানে উল্লেখ নেই। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল গত জুনে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পরে গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।


কীভাবে পাঠানো হয় এই নির্দেশ?
এই ধরনের বড় পদক্ষেপ মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় সহযোগ পোর্টালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। একটি নির্দেশের অধীনে একাধিক পোস্ট, লিঙ্ক বা কনটেন্ট সরানোর কথা বলা থাকতে পারে। তবে এই পোর্টালটি কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিও ব্যবহার করে। তাই মোট নির্দেশের মধ্যে ঠিক কতগুলি কেন্দ্র পাঠিয়েছে আর কতগুলি রাজ্য পাঠিয়েছে- সেই বিভাজন স্পষ্ট করা হয়নি।

ওই সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, সরকার-নির্ধারিত তিন ঘন্টার মধ্যে কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলার সময়সীমা মেনে চলার জন্য, মেটা তার অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস-কে সহযোগ পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এর ফলে, সরকারি নির্দেশ চিহ্নিত হয়ে সিস্টেমে আপলোড করা কন্টেন্টগুলো কোম্পানির পর্যালোচনা ছাড়াই তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরিয়ে ফেলা যাচ্ছে।

আগের বছরের সঙ্গে তুলনামূলক চিত্র
পূর্ববর্তী পরিসংখ্যানের তুলনায় সাম্প্রতিক এই ৫ মাসের ব্লক-নির্দেশের সংখ্যা বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৪-২৫ রিপোর্ট: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ১ লক্ষ ১১ হাজারের বেশি সন্দেহজনক অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করা হয়েছিল।
তথ্য জানার অধিকার বা RTI: ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউব-সহ ১৯টি প্ল্যাটফর্মকে মাত্র ২ হাজার ৩১২টি ব্লকিং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল হোয়াটসঅ্যাপের উদ্দেশ্যে।
ভারতে ৬০ কোটিরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রয়েছে। ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিদিন ১ কোটি থেকে ১০ কোটি পোস্ট করা হয়, যা শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জন্য বিশ্বের বৃহত্তম ব্যবহারকারী ভিত্তিক বাজার।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রবিক্ষোভ এবং ডিপফেকের মতো প্রযুক্তিগত ঝুঁকির আবহে নজরদারির এই নজিরবিহীন কড়াকড়ি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।