কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু, শোকপ্রকাশ মোদীর

মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন, ৬০ জনকে উদ্ধার করা হল। হোটেলের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে তদন্ত

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ন’জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার সমাজমাধ্যমে তিনি মৃতদের পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সাহায্য স্থানীয় প্রশাসন করছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে। রাত ২টো নাগাদ নিউ মার্কেট থানায় আগুনের খবর পৌঁছয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ, দমকল এবং সিইএসসি-র কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে উদ্ধারকাজ। প্রায় ৬০ জন আবাসিককে নিরাপদে বার করে আনা হয়। তবে হোটেলের ভিতর থেকে দু’জন মহিলা এবং একটি শিশুসহ ন’জনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশ তদন্তের জন্য বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। আগুনের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলগুলির অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, কলকাতার হোটেলগুলির বৈধ অনুমতি এবং ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, একটি ভবনের তিনটি তলায় প্রায় দশটি হোটেল চলছিল। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে অতিথিদের রাখা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিয়ম না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

ঘটনার দু’দিন আগেই বীরভূমের তারাপীঠের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। পর পর দু’টি ঘটনায় রাজ্যের হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মির্জা গালিব স্ট্রিটের পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।