ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের পরেই নয়া উদ্যোগ, পড়ুয়াদের ‘মন কি বাত’ শুনতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : যন্তরমন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ব্যানারে জেন জি-র বিক্ষোভের পর এ বার ছাত্র-যুবদের কাছে পৌঁছতে আরও সক্রিয় হল নরেন্দ্র মোদী সরকার। পড়ুয়াদের ক্ষোভ, প্রত্যাশা এবং সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে এ বার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করা হয়েছে ‘এক দিন, এক বিশ্ববিদ্যালয়’ কর্মসূচি।
এই কর্মসূচিতে প্রতিদিন এক জন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন, শুনবেন তাঁদের মতামত। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে কর্মসংস্থান—বিভিন্ন বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভাবনা জানতে চাইবে কেন্দ্র। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং শিক্ষা ও বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রের পদক্ষেপগুলিও তাঁদের সামনে তুলে ধরা হবে।
তবে শুধু সরকারের সাফল্য প্রচারই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয় বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যুব সমাজের মধ্যে কী ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাঁদের প্রধান সমস্যাগুলি কী এবং সরকারের নীতি নিয়ে তাঁদের মনোভাব কেমন—তা সরাসরি বুঝে নেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। অর্থাৎ, ভোটের রাজনীতির বাইরে গিয়ে জেন জি-র ‘মন’ পড়ার চেষ্টা।
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের পর থেকেই তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সমাজমাধ্যমে জেন জি-কে লক্ষ্য করে তাঁর একাধিক বার্তা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তরুণদের জন্য নানা ঘোষণাতেও সেই মনোভাব স্পষ্ট। এ বার সেই প্রচেষ্টাই পৌঁছল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
এই কর্মসূচির সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে। কোন মন্ত্রী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন, সেই পরিকল্পনাও তাঁরাই করবেন।
অন্য দিকে, পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’। দেশের প্রায় ৮০০টি ছোট-বড় শহরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কংগ্রেসের। তার মধ্যেই পাল্টা সরকারি উদ্যোগে ছাত্র-যুবদের কাছে পৌঁছনোর বার্তা দিল মোদী সরকার।