‘কালো টাকার লেনদেন থেকে ম্যাচ ফিক্সিং’, অভিষেকের ক্লাব নিয়ে তদন্তের দাবি ইন্দ্রনীলের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ডায়মন্ড হারবার এফসি-কে ঘিরে এ বার সরাসরি দুর্নীতি, কালো টাকার লেনদেন, স্বজনপোষণ এবং ম্যাচের অনৈতিক কারচুপির অভিযোগ তুললেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর দাবি, ক্লাবটির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এসেছে। সবক’টি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটবলে কোনও ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘‘বিস্তর অনিয়ম, নিয়মভঙ্গ এবং ম্যাচের নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছে। দুর্নীতি, কালো টাকার লেনদেন, স্বজনপোষণ, জোর করে দখল এবং ম্যাচ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রেফারি ‘ফিক্স’ করা থেকে শুরু করে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগও এসেছে। সবই তদন্ত করা হচ্ছে।’’
তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ডায়মন্ড হারবার এফসির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ করেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘কালো টাকা, দুর্নীতি বা অনৈতিক কার্যকলাপের মাধ্যমে কেউ এই দলকে ব্যবহার করে থাকলে তা ফুটবল বা ফুটবলারদের কোনও উপকার করেনি।’’
আগের তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার ফুটবলে রাজনীতির প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ করেন ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁর দাবি, ডায়মন্ড হারবার এফসিকে সামনে রেখে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বাংলার ফুটবলের পরিকাঠামো এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিবেশের ক্ষতি করেছে। পশ্চিমবঙ্গ ফুটবলের আঁতুড়ঘর হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জাতীয় স্তরে বাংলার প্রতিনিধিত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, কলকাতা ময়দানকে ‘রাজনীতি ও দুর্নীতিমুক্ত’ করার চেষ্টা চলছে। প্রাক্তন ফুটবলারদের সামনে রেখে বাংলার ফুটবলকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডায়মন্ড হারবার এফসিকে ঘিরে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জুনে এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে জানিয়েছিলেন, ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক এবং নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তৎকালীন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
এ দিকে, আইএসএলের ২০২৬-২৭ মরসুমে ডায়মন্ড হারবার এফসির অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই আবহে ক্রীড়ামন্ত্রীর নতুন অভিযোগ ঘিরে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হল।