৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর এটাই কোনও মার্কিন দূতের প্রথম কাশ্মীর সফর।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : মুখ পুড়ল পাকিস্তানের। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন জানাল আমেরিকা। বুধবার শ্রীনগর সফরে এসে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। তাঁর এই মন্তব্যের পরই তোলপাড় পরিস্থিতি পাকিস্তানে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁর এই মন্তব্য কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর এটাই কোনও মার্কিন দূতের প্রথম কাশ্মীর সফর।
উপত্যকায় পৌঁছে উচ্ছ্বসিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এখানে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে। এটা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমি প্রথমবার এখানে এসেছি এবং জায়গাটি অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর। কাশ্মীর ওপর পাকিস্তানের অবৈধ দাবি এবং ক্রমাগত উস্কানির আবহে একজন শীর্ষ মার্কিন দূতের মুখে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে উল্লেখ করা আসলে নয়াদিল্লির অবস্থানেরই স্পষ্ট জয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
মার্কিন ট্র্যাভেল অ্যাডভারজরি কমানোর ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সার্জিও গোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, জম্মু-কাশ্মীরের ক্ষেত্রে জারি থাকা আমেরিকার কঠোর ট্র্যাভেল অ্যাডভাইজারি বা ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। বর্তমানে হামলার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য কাশ্মীরে লেভেল ৪- DO NOT TRAVEL সতর্কতা জারি রয়েছে। সার্জিও গোর বলেন, আমরা খতিয়ে দেখব এই সতর্কতা কমানো যায় কিনা। নয়াদিল্লি এবং স্থানীয় সরকার এই এলাকাটিকে আরও নিরাপদ করতে অবিশ্বাস্য পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি মনে করি প্রচুর মার্কিন নাগরিক এখানকার সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চাইবেন।
১৯৮৯ সালে জম্মু-কাশ্মীরে হামলার পর থেকে আমেরিকা বারবার নাগরিকদের মর্ত্যের ভূ-স্বর্গে বেড়াতে আসা নিয়ে সতর্ক করেছে। ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা লোপ পায়। এরপর দীর্ঘ সময় সেখানে মানুষ প্রায় ঘরবন্দি অবস্থাতেই কাটিয়েছে। পরিস্থিতি যখন একটু একটু করে স্বাভাবিক হয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছিল এবং কাশ্মীরে পর্যটন বেশ জমে উঠেছিল, সেই সময় হঠাৎ পহেলগাঁওয়ে হামলা হয়। গত বছর ২২ এপ্রিল হামলাকারীদের গুলিতে ২৬ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারান। যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক ছিলেন। এর জবাবে মে মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিঁদুর সামরিক অভিযান চালায় ভারতীয় সেনা৷ দুই দেশের সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জম্মু-কাশ্মীর ৷ এরপর জুনে আবারও কাশ্মীরকে অত্যন্ত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা বলে দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷
এবার আসা যাক অন্য ইকুয়েশনে। সম্প্রতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের তিন দফায় নির্বাচন হয়েছে। সেখানে সেনার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৫১ জন প্রতিবাদীর। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকও রয়েছেন। ভোটকে কেন্দ্র করে এত মানুষের মৃত্যুর নজির সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বের কোথাও নেই। বারবার পাকিস্তান কাশ্মীরকে তাদের বলে দাবি করে আসছে। সেখানে তারা নাকি স্বাধীনতাও চায়। তবে সম্প্রতি সেদেশে যখন দুর্ভিক্ষ, খাদ্যের হাহাকার তখন অধিকৃত কাশ্মীরকে বিদেশি জমি বলতে দু বার ভাবেনি নির্লজ্জ পাকিস্তান। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষ হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে বাঁচতে শেষমেশ ভারতকে সীমান্ত খোলার আর্জিও জানিয়েছে। অন্যদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানুষের প্রাণহানি নিয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে রাষ্ট্রসংঘকে। তবে সেসব কিছু ছাপিয়ে গিয়েছে ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের মন্তব্য যে, জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। গোরের এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানের গা জ্বালা শুরু হয়ে গেছে। বুধবার পাকিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তবল করেছিল ইসলামাবাদ। শোনা যাচ্ছে গোরের মন্তব্যের জেরে বিবৃতি জারি করে বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান যতই গলা ফাটাক, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে, থাকবে। ভবিষ্যতে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে কিনা, সেটা সময়ের উপরেই ছেড়ে দেওয়া যাক। তবে সার্জিও গোরের এই মন্তব্যের পর পাকিস্তানের অন্যায্য দাবি যে আমেরিকাও ভাল চোখে নেয় না তা পরিষ্কার হয়ে গেল। তাহলে দর্শক একজন শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকের এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের গাত্রদাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে ভারত চুপচাপ পরিস্থিতির পর পর্যবেক্ষণ করছে। তবে কাশ্মীর নিয়ে আমেরিকার মন্তব্য সময় সময় পাল্টেছে। ভারতের এলে ভারতের মতো, পাকিস্তানে গেলে পাকিস্তানের মতো করেই বক্তব্য রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তো সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুকে দ্বিপাক্ষির ইস্যু না বলে আন্তর্জাতিক বিষয় হলে দাবি করে মেডিয়েশনের দাবি করে বসে। তবে পাকিস্তান আগামী দিনে এই বক্তব্য নিয়ে কী পদক্ষেপ করে সেটাই দেখার।