নেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র, উদ্বেগ সুন্দরবনে

সুন্দরবনের অধিকাংশ হোটেলে নেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : তারাপীঠের পর নিউমার্কেট কোনটাই ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই এই হোটেলগুলি চলছিল । যার পরিণাম প্রাণ দিয়ে চোকাতে হয়েছে বহু মানুষকে। ফলে চিন্তা বাড়ছে পর্যটন কেন্দ্র গুলির মধ্যে অন্যতম হলো সুন্দরবন হোটেল। প্রচুর লজ রয়েছে সেখানে, দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানকার পরিস্থিতি কেমন খোঁজ করতে গিয়ে সামনে এসেছে চমকে দেয়ার মত তথ্য। কারন বেশিরভাগ হোটেলেই নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, নেওয়া হয়নি ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট । এইভাবেই দিনের পর দিন চলছে সুন্দরবনের প্রায় শতাধিক হোটেল । আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নেই সে কথা অবশ্যই স্বীকার করেছেন হোটেল মালিকেরা ।

১. অগ্নি সুরক্ষা ও লাইসেন্সের অভাব:
তারাপীঠ ও নিউমার্কেটের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর সুন্দরবনের হোটেল ও লজগুলির ফায়ার সেফটি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সুন্দরবনের প্রায় শতাধিক হোটেলে কোনো অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নেই এবং অধিকাংশ হোটেলেরই নেই ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট।
​২. জরুরি ব্যবস্থার অপ্রতুলতা:
গোসাবা অঞ্চলে কোনো দমকল কেন্দ্র (Fire Station) নেই। ফলে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে স্থানীয় পুকুর বা জলাশয় থেকে পাম্পের সাহায্যে জল তুলে আগুন নেভানোর ওপরই নির্ভর করতে হয়, যা প্রতিবছর আসা লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সুরক্ষার ক্ষেত্রে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও আইনবিরুদ্ধ।
​৩. প্রশাসনের পদক্ষেপ ও চিঠি:
প্রায় মাসখানেক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা দমকল বিভাগ থেকে ফায়ার সেফটি লাইসেন্সবিহীন হোটেলগুলিকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে লাইসেন্স আবেদন করার চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
​৪. হোটেল মালিকদের প্রতিক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত:
​হোটেল মালিকেরা ফায়ার সেফটি না থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলার আশ্বাস দিয়েছেন।
​পাখিরালয় হোটেল ওনার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক জয়দেব খাটুয়া জানিয়েছেন, দমকলের চিঠির জবাবে তাঁরা কিছুটা সময় চেয়েছেন।
​চলতি মাসের মধ্যেই ক্যানিং মহকুমা দমকল বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় ফায়ার লাইসেন্স ও অনুমোদন সংগ্রহ করার সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।