সাহিলের পেলেট-কাণ্ডে এফআইআর, প্রায় আট ঘণ্টার ধর্না শেষে উঠলেন রাহুল গান্ধী। বিষয়টিকে নিজেদের জয় হিসেবে দেখছে কংগ্রেস। কটাক্ষ বিজেপির।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ছাত্র আন্দোলনে পেলেট গানের আঘাতে আহত সাহিল লোচভের অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত এফআইআর দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার সংসদ মার্গ থানার সামনে প্রায় আট ঘণ্টা ধর্নায় বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহিল, তাঁর মা এবং কংগ্রেসের একাধিক নেতা। সন্ধ্যার দিকে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর ধর্না শেষ করেন রাহুল।
এফআইআর দায়েরের বিষয়টিকে ‘ন্যায়ের পথে প্রথম পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস নেতা। রাহুলের অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় এক মাস কেটে গেলেও সাহিলের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়নি। তাঁর দাবি, সাহিলের শরীরে এখনও বহু পেলেট রয়েছে। কয়েকটি চোখে এবং কয়েকটি হৃদ্যন্ত্রের কাছাকাছি আটকে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাহুলের অভিযোগ, ‘‘পুলিশ আধিকারিকেরা মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপরমহল থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।’’ এফআইআর দায়ের হতে এত সময় লাগল কেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৮ ও ১২৫ ধারায় মামলা হয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে থেকে শুরু করে জয়রাম রমেশ, পবন খেরা, অশোক গেহলট—দলের একাধিক নেতা রাহুলের আন্দোলনকে ‘জয়’ বলে দাবি করেছেন। সাহিলও রাহুলকে ধন্যবাদ দিয়ে জানিয়েছেন। ১৪ অগস্ট থেকে এফআইআর দায়েরের জন্য পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছিলেন তিনি। তবুও কোনও লাভ হয়নি।
তবে কংগ্রেসকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। রাহুলের ধর্নাকে ‘সস্তার প্রচার’ এবং ‘ক্যামেরাকেন্দ্রিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তাঁর যুক্তি, ২০ জুলাইয়ের ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পাঁচ সদস্যের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ, গিরিরাজ সিংও রাহুলের বিরুদ্ধে ‘অরাজকতার রাজনীতি’র অভিযোগ তুলেছেন।
২০ জুলাই যন্তরমন্তরে ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আর সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের হিংসা এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের হেনস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি।