শর্মিলার ‘বন্দে মাতরম’ মন্তব্যে তরজা

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে শর্মিলার মন্তব্যে বিতর্ক, বিজেপির নিশানায় অভিনেত্রী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। প্রবীণ অভিনেত্রীর বক্তব্যের সমালোচনায় সরব বিজেপি। দলের সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শর্মিলার মন্তব্যকে ‘দেশবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খানও প্রশ্ন তুলেছেন।

ধর্ম নিরপেক্ষ দেশে সব ধর্মের মানুষের পক্ষে আদৌ পুরো গানটি গাওয়া সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেত্রী। বন্দে মাতরম প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে সম্প্রতি প্রবীণ অভিনেত্রী বলেন, “আমার মনে হয়, এমন অনেক ধর্মবিশ্বাসী মানুষ আছেন এদেশে, যাঁরা বহু দেবদেবীতে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরে বিশ্বাসী। ‘বন্দে কালী’ ‘বন্দে দুর্গা’— এমন পংক্তিগুলির জন্য কিছু কিছু ধর্মের মানুষের কাছে এই গান গ্রহণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

এই মন্তব্য নিয়েই বিজেপির আপত্তি। বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কেউ পরামর্শ দিতেই পারেন। কিন্তু কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেন যে দ্বিতীয় স্তবকের পর আর গাইবেন না, তা হলে সেটা দেশবিরোধী।’’ একই সঙ্গে কংগ্রেসকে সংসদে আলোচনায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বন্দে মাতরম বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা থেকে বিরোধীরা দূরে থেকেছে।

রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের আক্রমণ আরও তীব্র। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘দেশপ্রেম কি শর্মিলা ঠাকুর বা কংগ্রেসের কাছ থেকে শিখতে হবে?’’ তাঁর বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনুপ্রেরণা ছিল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘আনন্দমঠ’ এবং ‘বন্দে মাতরম’। সেই ইতিহাস থেকেই দেশপ্রেমের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে শর্মিলার মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতও। সমাজমাধ্যমে শর্মিলার সাক্ষাৎকারের ভিডিয়ো শেয়ার করে কঙ্গনা জানান, প্রবীণ অভিনেত্রীর মতপ্রকাশের অধিকারকে তিনি সম্মান করেন। তবে ‘বন্দে মাতরম’-কে কেবল ধর্মীয় আচারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার ব্যাখ্যার সঙ্গে তিনি একমত নন।

কঙ্গনার বক্তব্য, কবিতা ও শিল্পে রূপক এবং কল্পনার ব্যবহার থাকে। ‘শক্তি’কে তিনি শক্তি ও সামর্থ্যের প্রতীক হিসাবেই দেখার কথা বলেন। একই সঙ্গে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতা’র ঊর্ধ্বে উঠে গানটির অর্থ বোঝার আবেদন জানান তিনি।

‘বন্দে মাতরম’ বিতর্কের সূত্রপাত স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দফতরের একটি ভিডিয়ো ঘিরে। সেখানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় মল্লিকার্জুন খড়্গে ও সনিয়া গান্ধীর কথাবার্তার দৃশ্য সামনে আসার পর বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় গানের ‘অসম্মান’-এর অভিযোগ তোলে। সেই বিতর্কের মধ্যেই শর্মিলার মন্তব্যে ফের উত্তপ্ত রাজনীতি।